ঢাকা বুধবার ১৩ মে ২০২৬ ৩০ ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৩ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

গরুর মাংস আমদানির দাবি রেস্তোরাঁ মালিকদের

প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, সময়ঃ ১০.৪৪ এ.এম
গরুর মাংস আমদানির দাবি রেস্তোরাঁ মালিকদের
www.dailyranggaprovat.com

রাঙা প্রভাত ডেস্ক :

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে গরুর মাংসের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস দীর্ঘদিনের। এমন পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে মাংস নিশ্চিত করতে এবার আমদানির অনুমতি চেয়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের সংগঠন। তবে সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশীয় খামারি ও পশু উৎপাদন খাতের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে মাংস আমদানির কোনো পরিকল্পনা আপাতত তাদের নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশে প্রায় ৬০ হাজার এবং কেবল ঢাকাতেই প্রায় ২৫ হাজার হোটেল-রেস্তোরাঁ রয়েছে। এসব ব্যবসায়ীদের দাবি, মাংসের দাম অত্যধিক হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে এই আমিষ। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কিছুকাল আগে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরে এই আলোচনা নতুন মাত্রা পায়। ব্রাজিল তখন প্রতি কেজি গরুর মাংস মাত্র ৫০০ টাকারও কম দামে বাংলাদেশে সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মাংস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে ব্রাজিল বর্তমানে চীনসহ শতাধিক দেশে তাদের পণ্য সরবরাহ করছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মাংস আমদানির বিষয়ে সরকারের নীতিগত কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরকার মনে করছে, দেশে এখন পর্যাপ্ত গরু উৎপাদন হচ্ছে। এমন অবস্থায় বাইরে থেকে মাংস আমদানি করলে দেশীয় উদ্যোক্তারা বিপুল ক্ষতির মুখে পড়বেন এবং খামারিদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। মূলত প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষা দিতেই সরকার মাংস আমদানির প্রস্তাবে সায় দিতে রাজি নয়।

এক সময় ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হওয়ার পর দেশীয় বাজারে মাংসের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, এক শ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেট এই সুযোগে দাম বাড়িয়ে এখনকার পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। যদিও কিছু পাঁচতারকা হোটেল ও নামী রেস্তোরাঁ বিশেষ ব্যবস্থায় হিমায়িত মাংস আমদানি করে থাকে, তবে তা সাধারণ বাজারের জন্য উন্মুক্ত নয়।

সাধারণ ভোক্তাদের একটি বড় অংশ মনে করেন, সীমিত পরিসরে হলেও আমদানির সুযোগ দিলে বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং দাম কমবে। অন্যদিকে, পশু পালন খাতে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্যকে ম্লান করতে চায় না সরকার। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মতে, আমদানির চেয়ে দেশীয় উৎপাদন খরচ কমানোর দিকে নজর দিলেই ভোক্তা ও খামারি- উভয় পক্ষ লাভবান হবে।