ঢাকা সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৩ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

মধুখালীতে ২৯ বছরেও হয়নি রাস্তা

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, সোমবার, সময়ঃ ০৫.৪৯ পি.এম
মধুখালীতে ২৯ বছরেও হয়নি রাস্তা
www.dailyranggaprovat.com

নিজস্ব প্রতিবেদক : ★ কাঁদা-পানিতে ঝুকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের।

শাহজাহান হেলাল, মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি।।বর্ষা মৌসুমে কাঁদা-পানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। বছরের পর বছর এভাবেই বিদ্যালয়ে যাচ্ছে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী।গত ২৯ বছরেও শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রায় এক কিলোমিটার একটি রাস্তা করে দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থা ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের ঘোড়াচুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি শিকার হচ্ছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিদ্যালয়ে প্রবেশের একটি মাত্র রাস্তা এটি। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বাধ্য হয়েই রাস্তা ধরেই যাতায়াত করছেন বছরের পর বছর। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৮ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে রেজিঃ বিদ্যালয় থেকে ১ জানুয়ারী ২০১৩খ্রি. বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। ২০১১ সালে দ্বিতল ভবন  নির্মাণ হয়।  বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৮৪ জন শিক্ষার্থীকে ছয় জন শিক্ষক পাঠদান করাচ্ছেন। বিদ্যালয়ে যাতায়াত প্রসঙ্গে ঘোড়াচুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী বিশাল দাস জানায়, বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে কষ্ট হয়। আমাদের অনেক বন্ধুরা এ মৌসুমে স্কুলে নিয়মিত ক্লাস করেনা। ৫ম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতি খাতুন জানায়, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির শুরু হলে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে খুবই কষ্ট হয়। কখনো কখনো পড়ে গিয়ে বই-খাতা ভিজে যায়। অপর শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী দাস জানায়, বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় যেতে পড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়েই আসে না। বিদ্যালয়র সহকারী শিক্ষক হেমন্ত দাস বলেন, বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আসতে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে যায় পোশাক ও বই-খাতা। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে এলেও পুরো বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকে। রাস্তা না থাকা প্রসঙ্গে ঘোড়াচুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার দাস বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য ৮২০ ফুট রাস্তা কাঁচা রয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় কাঁদা পানি জমে থাকায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা পড়ছে চরম বিপাকে। বিষয়টি নিয়ে আমি স্থানীয় ই্উপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের অনেকবার অবগত করেছি। বর্ষা মৌসুম আসলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের সীমা থাকেনা। কোমলমতি বাচ্চাদের জন্য রাস্তাটি নির্মাণ খুবই জরুরী।মেগচামী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড  সদস্য সনৎ কুমার দাস বলেন,  ফুলেশ্বরি পানি উন্নয়ন সমবায় সমিতির উদ্দ্যোগে খালের পার দিয়ে ১৯৯৭ খ্রি. রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। রাস্তাটি এখন এই এলাকার মানুষের একমাত্র চলাচলের মাধ্যম। বৃষ্টি - কাঁদা যাই হোক এটি ছারা চলাচলের অন্য কোন মাধ্যম নাই  রাস্তাটি পাঁকা করনের জন্য উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে অবগত করা হয়েছে। মেগচামী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ সাবিদ উদ্দীন শেখ সাব্বির জানান, রাস্তাটির করুন অবস্থা। বর্ষা মৌসুমে বাচ্চাদের স্কুলে যেতে খুবই কষ্ট করতে হয়। আমি কিছুদিন আগেও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে এ বিষয়ে অবগত করেছি। রাস্তাটি দ্রুত নির্মাণ করে দিতে পারলে আমার কাছেও ভাল লাগত। এ প্রসঙ্গে মধুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম বিথী বলেন, আমি এ উপজেলায় সবে মাত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। এখনো স্কুলটিতে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেষ্টা করব।