ঢাকা সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩০ ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৯ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রোববার, সময়ঃ ০১.৫৯ পি.এম
স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন
www.dailyranggaprovat.com

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যৌতুক দাবি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগ করেছেন সুপ্তি আক্তার নামে এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 রোববার  (১৩ সেপ্টেম্বর)  সকালে এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের পাঠ করে অভিযোগ তুলে ধরেন উপজেলার বড় বাশাইল গ্রামের মোঃ ইব্রাহীম মোল্লার মেয়ে সুপ্তি আক্তার।

লিখিত বক্তব্যে সুপ্তি আক্তার অভিযোগ করেন, প্রায় নয় বছর আগে রাজিহার এলাকার শাহাদাৎ ফকিরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তার কাছে দুই থেকে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। যৌতুক দিতে না পারায় তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় সুপ্তি আক্তারের সাথে উপস্থিত ছিলেন ছোট বোন জান্নাত আক্তার।

সুপ্তির অভিযোগ, স্বামীর চাচা বিএনপি নেতা কামরুল ফকিরের পরামর্শ ও প্রভাবে তাকে নির্যাতন করা হতো। তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার বয়স বর্তমানে প্রায় তিন বছর চার মাস। এছাড়া ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর রাতে তার স্বামী পেটে লাথি মারায় গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওই সময় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন সুপ্তি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে চলতি বছরের ১৩ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটির নম্বর ৩৬৮/২৬ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া বিএনপি নেতা কামরুল ফকির ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হুমকি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন অভিযোগও করেন সুপ্তি আক্তার। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সুপ্তি আক্তার অভিযুক্ত শাহাদাৎ ফকির, কামরুল ফকির, শাহে আলম ফকির, মনিরুজ্জামান ফকির ও সাহারুল ফকিরের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তিনি প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি জানান।