আগৈলঝাড়ায় শিশু সুরক্ষা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিশু সুরক্ষা এবং যৌন হয়রানি
প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মসূচির উপজেলা পর্যায়ে ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের
অধীনে ‘শিখা প্রকল্প’র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের
অর্থায়নে ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স কর্মসূচির আওতায় এই অবহিতকরণ সভা
অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে
সচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর প্রতিকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক
সক্ষমতা উন্নয়ন।
গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা
কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য
রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক,
সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রফিকুল
ইসলাম, ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমীর প্রধান শিক্ষক যতিন্দ্রনাথ
মিস্ত্রী, রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান,
শিখা প্রকল্পের প্রোজেক্ট অফিসার অনিক বিশ্বাস, উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, অভিভাবক,
ইয়ুথ ক্লাবের সদস্যরা, কমিউনিটি ভলান্টিয়ারসহ ব্র্যাক ও বিভিন্ন সংস্থার
প্রতিনিধিবৃন্দ। ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্র্যাক বরিশাল জেলার টেকনিক্যাল ম্যানেজার মো.
তৌহিদুর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যপরিধি এবং
উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচির লক্ষ্য তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন,
ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের এই সময়োপযোগী উদ্যোগ, বিশেষ করে শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বাংলাদেশে জেন্ডারভিত্তিক
সহিংসতা ও যৌন হয়রানি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, যৌন হয়রানি
একটি ভয়াবহ অপরাধ, যার প্রভাব একজন ভুক্তভোগীর পুরো জীবনজুড়ে থেকে যায়।
এটি শিশু ও নারীদের মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ জীবনকে গভীরভাবে
ক্ষতিগ্রস্থ করে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত সর্বত্র
নারীদের নিরাপদ ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক বলেন, যৌন হয়রানির মতো অপরাধের
বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। যেকোনো অভিযোগ আমরা সর্বোচ্চ
গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করি এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করি। সমাজের
প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভুক্তভোগীরা
নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো
শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার স্থান। ‘শিখা
প্রকল্প’ এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় ধন্যবাদ জানাই।
রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন,
ভুক্তভোগীরা যেন নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারে, শিখা প্রকল্প’ যেন এমন
সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি তাদের মানসিক ও আইনি সহায়তা
নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।
ব্র্যাক বরিশাল জেলার টেকনিক্যাল ম্যানেজার মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, শিখা
প্রকল্প মূলত উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাবলিক স্পেস এবং
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করবে। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা এবং
নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা
অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তন আনতে সহায়ক
হবে।
আয়োজিত এ সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা, যৌন হয়রানি, বাল্য
বিবাহ, বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধ জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে
কর্মপরিকল্পনা করা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
