ঢাকা বুধবার ২৪ জুন ২০২৬ ১০ ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৫ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

লেখক এস এম কাঞ্চন এর কলাম " জীবনের রং"

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, সময়ঃ ০৫.৩৯ পি.এম
লেখক এস এম কাঞ্চন এর কলাম " জীবনের রং"
www.dailyranggaprovat.com

জীবনের রং

লেখক: এস. এম. কাঞ্চন


জীবনের রং একরঙা নয়—এটা এক বিশাল রঙের ক্যানভাস। কখনো তা নীল আকাশের মতো শান্ত, আবার কখনো কালো মেঘের মতো ভারী। সুখের মুহূর্তগুলো যেন উজ্জ্বল হলুদ রোদ, যা মনকে আলোকিত করে; আর দুঃখগুলো ধূসর ছায়া হয়ে আমাদের গভীরতা শেখায়।

কখনো ভালোবাসা লাল গোলাপের মতো প্রাণ জাগায়, আবার কখনো বিচ্ছেদ শুকনো পাতার মতো নিঃশব্দে ঝরে পড়ে। জীবনের পথে হাঁটতে হাঁটতে আমরা বুঝি—প্রতিটি রঙেরই প্রয়োজন আছে। কারণ শুধু সাদা-কালো হলে জীবন এতটা সুন্দর হতো না।

জীবন আসলে এক আঁকাবাঁকা ছবি, যেখানে হাসি-কান্না, আশা-নিরাশা—সব মিলেই তৈরি হয় আমাদের গল্প। তাই প্রতিটি রঙকে গ্রহণ করাই জীবনের সবচেয়ে বড় শিল্প। রিকশাওয়ালা মামাটা প্রতিদিনই নিয়ম করে দাঁড়িয়ে থাকে।

আজ নিচে নামতেই কানে ভেসে এলো—

এক ভদ্রলোক বলছেন  “মামা, যাবা?”

তিনি হেসে বললেন, “না, ভাড়া আছে।”

আমি একটু এগিয়ে যেতেই—

“স্যার, উঠুন!”

রিকশায় বসে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

“এইমাত্র তো বললেন ভাড়া আছে?”

তিনি শান্ত স্বরে বললেন,

“স্যার, আমি আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।”

কথাটা শুনে আমি থমকে গেলাম।

হঠাৎ খেয়াল করলাম—দীর্ঘদিন ধরে এই মানুষটিই আমাকে প্রতিদিন কর্মস্থলে পৌঁছে দিচ্ছেন। সকাল ১০টা, ১০:৩০, এমনকি ১১টায় নামলেও দেখি, তিনি ঠিক একই জায়গায় রিকশার সিটে বসে আছেন।

এতদিন ভেবেছি— কাকতালীয়!

আজ বুঝলাম, বিষয়টা তেমন না।

আজ মনে হলো—

জীবনের রং আসলে এমনই।

কেউ নিঃশব্দে আমাদের জন্য অপেক্ষা করে,

কেউ নিজের প্রয়োজনের মাঝেও অন্যের জায়গা রেখে দেয়।

এই ছোট ছোট মানুষগুলোই জীবনের ক্যানভাসে

অদৃশ্য রঙ ছড়িয়ে দেয়—

যা চোখে দেখা যায় না,

কিন্তু মনে গভীরভাবে লেগে থাকে জীবনের রঙ।।