কচুয়ায় লোডশেডিং ও অস্বাভাবিক বিলের চাপে অতিষ্ঠ কচুয়াবাসী
কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ লোডশেডিং এবং অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সেই সঙ্গে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধিতে গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। কখনো কখনো টানা ১ থেকে ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ঘটনা নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৈরী আবহাওয়া দেখা দিলেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া যেন নিয়মে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা সবচেয়ে বেশি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়া বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার অভিযোগও বাড়ছে।
গ্রাহকদের বড় একটি অভিযোগ হলো বিদ্যুৎ বিল নিয়ে। গত বছরের তুলনায় বর্তমান সময়ে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কারো কারো বিল দ্বিগুণ, আবার কারো তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়া গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর গাছপালা ও ডালপালা হেলে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগের এমন উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, কচুয়ার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ সামগ্রিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কচুয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম রাগিব আল হাসান বলেন, "বাগেরহাটের অন্যান্য উপজেলার তুলনায় কচুয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ তুলনামূলক ভালো আছে। আমাদের বর্তমানে চাহিদাই হলো ৯ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে আমরা পাচ্ছি মাত্র ৫ মেগাওয়াট। এরপরও সরকারি স্থাপনা ও জরুরি সেবাগুলোর কথা মাথায় রেখে আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।"
বিগত সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্য জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, "আগে গোপালগঞ্জ- বাগেরহাট এই এলাকাটি ভিআইপি (প্রধানমন্ত্রীর এলাকা) হওয়ার কারণে লোডশেডিং ছিল না। তখন লোডশেডিংয়ের পুরো চাপ ছিল উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে। এখন পুরো দেশেই বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে, আমরা আমাদের সাধ্যমতো সমন্বয় করছি।"
তবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এই বক্তব্য মানতে নারাজ স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, সরকারি সেবা নিশ্চিত করা বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্ব। শুধুমাত্র অন্য এলাকার তুলনায় ভালো আছে বলে দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। জনদুর্ভোগ কমাতে এবং বিদ্যুৎ খাতের এই চরম সংকট নিরসনে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
