নড়াইল -২ অনুদানের তালিকায় এমপির মেয়ের নাম, পিএস বরখাস্ত
মো: মনিরুজ্জামান চৌধুরী, নড়াইল : নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় তার মেয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) এ বিষয়ে এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্বাক্ষরিত একটি বরখাস্তের চিঠি প্রকাশ করেন।
চিঠিতে বলা হয়, দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আদেশটি ২৮ জুন থেকেই কার্যকর হবে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সংসদ সচিবালয়ের অর্থ শাখা-২-এর ১৮ জুনের একটি চিঠিতে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ১০ জনের নামে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকার অনুদান অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তালিকার ১ নম্বরে হবোখালী গ্রামের ফাইজা, পিতা মো. বাচ্চুর নামে ১০ হাজার টাকা এবং ৮ নম্বরে ফাইজা, পিতা মো. আতাউরের নামে আরও ১০ হাজার টাকা অনুদান বরাদ্দের উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য তিনি এ ঐচ্ছিক তহবিল পেয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকা জমা দেওয়ার তাগিদ থাকায় তিনি তার ব্যক্তিগত সহকারীকে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে উপকারভোগীদের নাম সংগ্রহ করে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তার দাবি, ব্যক্তিগত সহকারী পরিচিত কয়েকজনের নাম তালিকাভুক্ত করে জমা দিলেও তিনি তালিকাটি যাচাই করার সুযোগ পাননি।
তিনি আরও জানান, এখনো অনুদানের অর্থ বিতরণ করা হয়নি। প্রকৃত উপকারভোগীদের নিয়ে নতুন তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠানো হবে এবং সেই তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণ করা হবে।
সমালোচনার জবাবে এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, "জনগণের হকের একটি পয়সাও আমি বা আমার পরিবারের কেউ আগামী পাঁচ বছর স্পর্শ করবে না। যারা আমাকে হেয় প্রতিপন্নের চেষ্টা করছেন, তাদের জন্যও আমার অফুরন্ত দোয়া রইল।"
