ঢাকা রোববার ০৫ জুলাই ২০২৬ ২১ ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩৬ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

আশাশুনির দাড়ারখাল অবমুক্তের দাবীতে মানববন্ধন ও ডিসি বরাবর স্মারকলিপি পেশ

প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬, রোববার, সময়ঃ ০৭.৪৬ পি.এম
আশাশুনির দাড়ারখাল অবমুক্তের দাবীতে মানববন্ধন ও ডিসি বরাবর স্মারকলিপি পেশ
www.dailyranggaprovat.com

জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার "দাড়ার খাল" এর ইজারা বাতিল ও খাল অবমুক্ত রাখার দাবীতে এলাকার শত শত কৃষক মানববন্ধন ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হাতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। রবিবার (৫ জুলাই) বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

আশাশুনির কুল্যা ইউনিয়নের কৃষিজীবি অসহায় মানুষের অংশ গ্রহনে মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, কৃষক রবিউল ইসলাম, আবু মুছা, বাবু মোল্যা, মহিউদ্দীন লাকী, মুয়াজ্জিন আঃ সাত্তার, কৃষক রেজাউল ইসলাম খোকা, আঃ গফুর প্রমুখ। বক্তাগণ বলেন, আইতলা মৌজায় বিআরএস খতিয়ান-০১, বিআরএস ১ নং দাগে ১০.২০০ একর, ৫৩ দাগে ০.৩২০০ একর, ৫৪ দাগে ৩.০৫০ একর, ৫৫ দাগে ১.০৮০০ একর, ৮৮ দাগে ১.৫৪০০ একর, ১২২ দাগে ০.৬৫০০ একর, ১১৬ দাগে ০.১৭০০ একর, ১৪৪ দাগে ১.৮৮ একর, ১৭০ দাগে ০.৩৫০০ একর, ২১২ দাগে ১.৪৭০০ একর, সর্বমোট ২১,৭১০০ একর জমি। এই জমির খাল দিয়ে দীর্ঘকাল এলাকার পানি নিস্কাশন হয়ে থাকে। খালের উভয় পাশে ৩/৪ হাজার বিঘা আবাদী জমি রয়েছে। এলাকার শত শত পরিবার জমিতে ধান চাষ করে খাদ্য যোগান ও সংসার নির্বাহ করে থাকে। মৎস্য চাষীরাও মাছ উৎপাদন করে থাকে। এলাকার কিছু স্বার্থন্বেসী মহল খালটি ইজারা নিয়ে বিধি বহির্ভুত ভাবে মাটির বাঁধ ও আড়াআড়ি ভাবে নেটপাটা দিয়ে পানি সরবরাহ রুদ্ধ করে থাকে। ফলে প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে ইউনিয়নের অর্ধেকের বেশী মানুষের ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এলাকার অধিকাংশ কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে থাকে। ফলে এলাকার মানুষ প্রতি বছর খাদ্য অভাব ও স্বাভাবিক জীবন যাপন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইজারা দিয়ে সরকার যতটুকু রাজস্ব পাচ্ছে তার থেকে অযুতগুন জনসাধারণ তথা সরকারের ক্ষতি সাধিত হয়ে থাকে। কৃষকদের ফসল নষ্ট হওয়ার কারনে অধিকাংশ কৃষক হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। কৃষকরা সংসারের ঘাটি টানতে গিয়ে ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে এলাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত থাকায় জনজীবন বিপর্যস্থ ও ছাত্রছাত্রীরা স্কুল কলেজে যেতে পারে না। পানি বন্দীর কারনে মাছ চাষীদের ঘেরের অবস্থা চরম ভাবে ভেঙ্গে পড়ায় পথে বসার উপক্রম হতে চলেছে। 

বক্তাগণ আরও বলেন, গত বছর পানির চাপে এলাকা প্লাবিত হতে থাকলে প্রশাসনকে জানিয়ে এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনগণ একযোগে সকল বাঁধ কেটে প্রতিবন্ধকতা দুর করে এলাকে রাহু মুক্ত করতে সক্ষম হয়। এনিয়ে আইনী জটিলতা হলেও এলাকার সকল জমিতে বাম্পার ফলন হয়। ফলে দীর্ঘ সময়ের পরে এলাকার কৃষকদের মনে খুশির আমেজ দেখা গেছে। এবছর আবারও পানিতে ঢোবার হাত থেকে রক্ষা পেতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পক্ষ থেকে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী ও জনপথকে রক্ষার দাবীতে জজ কোর্টের এপিপি এড. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত আবেদন তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এমপি মুহাদ্দিস রবিউল বাশার মহোদয়ের সুপারিশকৃত আবেদনপত্র পেয়ে জেলা প্রশাসক মিজ কাওছার আজিজ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে সকলকে আশ্বস্থ করেন।