ঢাকা বুধবার ১৯ আগস্ট ২০২৬ ৪ ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২২ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

আগৈলঝাড়ায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, বুধবার, সময়ঃ ০৪.০০ পি.এম
আগৈলঝাড়ায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার
www.dailyranggaprovat.com

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ৪নং গৈলা মডেল ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনার মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ গৈলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ মহিলা

আওয়ামী লীগের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যা শীলা আক্তার গত ২৫ জুলাই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। নারী ইউপি সদস্যার মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই আলামিন হাওলাদার বাদী হয়ে ২৯ জুলাই আগৈলঝাড়া থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতের নামে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পলাতক আসামী ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতকে বুধবার রাত সাড়ে বারোটায় ঢাকার যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আজ বুধবার ভোরে ঢাকা থেকে ইউপি সদস্য মারুফকে আগৈলঝাড়া থানায় নিয়ে আসা হয়। নিহত ইউপি সদস্যার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২৫ জুলাই বিকেলে উপজেলার সেরাল গ্রামের রিপন সরদারের ভাড়া বাসায় ইউপি সদস্যা শীলা আক্তারের সাথে তার স্বামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ গৈলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতের পারিবারিক কলহ নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে ইউপি সদস্যা শীলা আক্তার ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিঁয়ে গলায় ফাঁস দেয়। এসময় প্রতিবেশীরা দেখতে পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ইউপি সদস্যা শীলা আক্তারকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এসময় তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেন। ওইদিন রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে (শীলা মেম্বার) বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তিনটি কন্যা সন্তানের জননী মৃত শীলা আক্তার গৈলা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরতি নারী ইউপি সদস্যা ছিলেন। তার স্বামী সেরাল গ্রামের শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিযয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। শীলা আক্তার ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী। মৃত শীলা আক্তারের বাবা সেরাল গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদার জানান, গত একবছর আগে মারুফ সেরনিয়াবাত আমার মেয়ে শীলা আক্তারকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তারা সেরাল গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় থাকতো। কারনে অকারনে তার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত প্রায়ই তার মেয়ে শীলাকে মারধর করতো।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পলাতক আসামী ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আগৈলঝাড়া থানায় নিয়ে আসা হয়। আজ সকালে ইউপি সদস্য মারুফকে বরিশাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে।