কলারোয়ায় সবুজের ছায়ায় গড়ে উঠছে নান্দনিক মসজিদ কমপ্লেক্স
শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : চারদিকে সবুজের সমারোহ। প্রকৃতির মাতাল করা হাওয়া। কোলাহলমুক্ত এমন এক মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠছে আধুনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ‘আবু হুরাইরা মসজিদ কমপ্লেক্স’। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের গণপতিপুর গ্রামে তিন বিঘা তিন কাঠা জমির বিশাল পরিসরে ৮ কোটি টাকার বাজেটে নির্মাণাধীন এ কমপ্লেক্সটি ভবিষ্যতে শুধু একটি উপাসনালয় নয়, ইসলামী শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে, এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। হেলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও শিল্পপতি ইমাম হোসেনের আর্থিক সহায়তায় নির্মাণাধীন কমপ্লেক্সটির নকশার ছবি দেখলেই বোঝা যায়, স্থাপনাটির পরিকল্পনায় আধুনিকতা ও ইসলামী স্থাপত্যশৈলীর চমৎকার সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ, সুউচ্চ মিনার, খিলানযুক্ত দরজা-জানালা, নান্দনিক নকশা ও প্রশস্ত প্রাঙ্গণ পুরো স্থাপনাটিকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দেবে। সবুজে ঘেরা বিস্তৃত জায়গাজুড়ে পরিকল্পিত স্থাপনাটি সম্পন্ন হলে এটি গ্রামীণ পরিবেশের মধ্যে এক আকর্ষণীয় স্থাপত্যে পরিণত হবে বলে ধারণা করা যায়।
নকশা অনুযায়ী মূল মসজিদ ভবনের পাশাপাশি কমপ্লেক্সে থাকছে এতিমখানা, আরবি শিক্ষার ব্যবস্থা, শিক্ষক ও ইমামের জন্য পৃথক আবাসিক ভবন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবাসিক ভবন। পাশাপাশি থাকবে ইসলামী গ্রন্থাগার। অর্থাৎ নামাজ আদায়ের পাশাপাশি এখানে শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার একটি সমন্বিত পরিবেশ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। নকশায় দেখা যায়, মূল মসজিদ ভবনের সম্মুখভাগে রয়েছে একাধিক নান্দনিক খিলান ও কারুকার্যখচিত জানালা। মাঝখানে বড় সবুজ গম্বুজ এবং পাশে সুউচ্চ মিনার স্থাপনাটির সৌন্দর্যেক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মিনারের চূড়ায় অর্ধচন্দ্রাকৃতির প্রতীক, গম্বুজের ওপর সোনালি অলংকরণ এবং দেয়ালের নকশায় ইসলামী স্থাপত্যের ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা রয়েছে। প্রবেশপথেও রয়েছে নান্দনিক গেট ও প্রশস্ত চলাচলের ব্যবস্থা।
কমপ্লেক্সের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সবুজ ও উন্মুক্ত পরিবেশ। নকশায় মসজিদ ভবনের চারপাশে বিস্তৃত সবুজ মাঠ, গাছপালা ও পরিচ্ছন্ন সীমানা প্রাচীরের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এখানে আগত মুসল্লি, শিক্ষার্থী ও অতিথিরা ইবাদত ও শিক্ষার পাশাপাশি একটি শান্ত, নির্মল ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
এ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, ইসলামী শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চাকে বিস্তৃত করা এবং শৈশব থেকেই শিশুদের মধ্যে ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বিত বিকাশ ঘটানোই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে এতিম শিশুদের ইসলামী শিক্ষায় দক্ষ, নৈতিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার সকালে শিল্পপতি ইমাম হোসেন নিজে উপস্থিত হয়ে মসজিদ কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজের ঢালাইয়ের উদ্বোধন করেন।
সোমবার বিকেলে ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “আবু হুরাইরা মসজিদ কমপ্লেক্সটি জেলার মধ্যে একটি আকর্ষণীয় স্থাপনা হবে। এখানে মসজিদের পাশাপাশি এতিমখানা, শিক্ষাব্যবস্থা, আবাসিক সুবিধা ও ইসলামী গ্রন্থাগার থাকবে। ভবিষ্যতে এটি ইসলামী শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
সবুজ-শ্যামল গ্রামবাংলার নীরব পরিবেশে আধুনিক স্থাপত্যের এই উদ্যোগ তাই ইতোমধ্যে মানুষের আগ্রহ তৈরি করেছে। নকশার কল্পিত ছবিতে যে সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে নির্মাণ শেষ হলে সেটি কতটা মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে স্থানীয়রা। সবুজের বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা গম্বুজ আর সুউচ্চ মিনার তখন হয়তো গণপতিপুরের পরিচিতির সঙ্গে নতুন এক স্থাপত্যের সৌন্দর্যের গল্পও যুক্ত করবে।
