জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: আলোচনায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, সময়ঃ ০৯.১৫ পি.এম
www.dailyranggaprovat.com
রফিকুল ইসলাম রনি :
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন'২৬ ঘিরে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ১নং বীরশেষ্ট জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গন ধীরে ধীরে সরগরম হয়ে উঠছে। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের "দোয়া প্রত্যাশী" ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে।
এখনো নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি, তবুও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার চায়ের দোকান, হাট-বাজার, সামাজিক অনুষ্ঠানে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
এখন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী আলোচনা অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সূত্রে জানা যায়, এবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে একাধিক পরিচিত মুখের।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল মালেক সিকদার অন্যতম আলোচিত নাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তার একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
এছাড়া বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুল আহসান খান হিমুর নামও আলোচনায় রয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তাকে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে বলে সাধারণ বিশ্লেষকদের অভিমত।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সমাজকর্মী ও জাতীয়বাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মো: আদনান আলম খান বাবু।সামাজিক কর্মকাণ্ডে তরুণ ভোটারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
একইভাবে উপজেলা বিএনপির সদস্য ১নং বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক তিনবারের ইউপি সদস্য ও শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক হাবিবুর রহমান রিপনের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রেখেছে।
জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ
সামাজিক মাধ্যমে ঘোষনা কৃত দলীয় মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাস্টার মোহাম্মদ ওমর ফারুককে নিয়েও আলোচনা চলছে । দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি একটি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।
এছাড়া যুবনেতা ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক রায়হান মাহাবুব রনবীর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ও সমাজসেবক ছানাউল হক মিয়ার নামও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নে এবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচিতি, জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ককে ঘিরে নানা ধরনের হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এখনো কোনো তফসিল ঘোষণা করেনি এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। ফলে নির্বাচনী মাঠে নতুন মুখের আগমন কিংবা সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ এখনো রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এবং প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করলে নির্বাচনী চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের মধ্যে উন্নয়ন, সুশাসন, সামাজিক সম্প্রীতি, কৃষি, শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটাররা জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন পরিষদের জন্য এমন একজন জনপ্রতিনিধি প্রত্যাশা করছেন, যিনি ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন এবং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবেন।
এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কোন কোন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী মাঠে নামেন এবং জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের ভোটাররা কাকে তাদের আগামী দিনের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন।
