ঢাকা শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৩ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

পাইকগাছায় বিদ্যুতের লোডশেডিং ও মশার উপদ্রব বৃদ্ধি

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, সময়ঃ ০৯.২১ পি.এম
পাইকগাছায় বিদ্যুতের লোডশেডিং ও মশার উপদ্রব বৃদ্ধি
www.dailyranggaprovat.com

অরুণ কুমার বিশ্বাস,পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : দক্ষিণ খুলনার ঐতিহ্য বাহী বানিজ্যিক শহর ঐতিহাসিক কপিলমুনিসহ উপজেলার  প্রত্যন্ত অঞ্চলে   বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

খাদ্য,বস্ত্র,শিক্ষা ,চিকিৎসা,বাসস্থানের মত  বিদ্যুৎ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ   হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ এলাকাবাসীর দৈনন্দিন  জীবনের ছোট খাটো ব্যাপার থেকে শুরু করে সাধারণ  কার্যকলাপে বিদ্যৎ অপরিহার্য।  সভ্যতার এ সময়ে  বিদ্যুৎ ছাড়া  একটি মুহূর্ত কল্পনা করলে  সাধারণ  জীবনযাপন প্রণালীর যে দুর্ভোগ তা’ জানা যায়। আর গরমের  দিনে বিদ্যুতের প্রয়োজন  আরও এক ধাপ বেশি।খাওয়া-দাওয়া, হাসপাতাল,ক্লিনিকে চিকিৎসা,কলকারখানা,ওয়ার্কশপে, চলাফেরাসহ স্বাভাবিক  কাজকর্ম  বিদ্যুতের  অভাবে বিঘ্ন ঘটছে। ব্যাহত হবার  আশংকা  দেখা দিয়েছে আমন  আবাদ।বিশেষ করে ।   বিদ্যুৎ বিপযর্য়ে স্কুল -কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা সীমাহীন  কষ্টের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। প্রত্যন্ত  গ্রামাঞ্চলের ছাতছাত্রীদের অধিকাংশই রাত ৯টা বা ১০টার ভিতর ঘুমিয়ে পড়ে। আর এ    এলাকার বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মতো ঘটনা সন্ধ্যা  থেকে এ সময়ের মধ্যে ঘটে।  ফলে লোডশেডিং-এর  কারণে তারা সঠিক ভাবে  পড়াশুনা করতে পারছে না। তাছাড়া , গ্রামাঞ্চলে আগের মত কোন বাড়িতে এখন আর  হরিকেন অথবা ল্যাম্প থাকেনা তাই তাদের পক্ষে রাত্রিতে ভাত খাওয়াটা অতান্ত কষ্ট দায়ক হয়ে পড়ে।বিদ্যুতের অভাবে  পাইকগাছা উপজেলার  বিভিন্ন বাজারে বিদ্যুৎ চালিত অনেক গুলি অটো রাইস মিল,স’মিল বরব কল, ষ্টুডিও, ফটোষ্ট্যাট মেশিন সহ সব ধরনের বন্ধ থাকে। ফলে মিল ফ্যাক্টরী,কলকারখানার উৎপাদন ও কাজ ব্যাহত হচ্ছে।এতে শ্রমিক মালিকসহ ব্যবসায়ীদের উপর ব্যপক   অর্থনৈতিক  প্রভাব পড়ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। সন্ধ্যার পর এলাকায়  বিদুৎ বিপর্যয়  ঘটলে এলাকার হাটবাজারগুলো অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে। চারিদিকে শুধু অন্ধকার  বিরাজ করে।রাত ১২টার পর বিদ্যুতের লোডশেডিং হয়। ফলে চোর, ছিনতাই কারীরা সুযোগের সদব্যবহার করে।

 পাইকগাছার  বিদ্যুৎ গ্রাহকরা  চরম ভোগান্তির  শিকার হচ্ছে। দিনের বেশীর ভাগ সময়ই চলে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া।সন্ধ্যা হলে বিদ্যুৎ হারিয়ে যায় ।বর্তমানে বিদ্যুতের  এটা ভেলকিবাজি রূটিনে পরিনত হয়েছে । ফলে এলাকার মানুষ হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ।অব্যাহত লোডশেডিং-এর কারণে এলাকায় কৃষি জমিতে সেচ কার্যক্রম হুমকির সম্মুখীন  হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ব্যাঘাত  ঘটছে উন্নয়নমূলক কাজ।   

সাধারণত বিদ্যুতের বেশী ব্যাবহার  হয় সন্ধ্যা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত। এ সময় গ্রামাঞ্চল ও বাজারের দোকানপাটে বিদ্যুতের ব্যাবহার বেশী হয়। কিন্তু দুঃজনক হলেও সত্য  এ সময়ই বিদ্যুতের  দেখা মেলেনা ।ফলে গ্রাহকরা হচ্ছে বিদ্যুৎ বঞ্চিত। বিদ্যুৎ  না জ্বালিয়ে প্রতিমাসে তাদের মিনিমাম চার্জের নামে নগদ অর্থ গুণতে হচ্ছে। আবার উচ্চ মূল্যে কেরোসিন  কিনে প্রয়োজন মিটাতে হচ্ছে।

এদিকে বাজারের ব্যবসায়ীরা ভাড়ায় চালিত জেনারেটরের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন মেটায় বিদ্যুতের এ ভেলকিবাজির পরও বিলের টাকা তাদের বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে কেউ পরিশোধ করতে না পারলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে তারা এতটুকুও কার্পণ্য করে  না।    উপজেলার  প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্য্রুতর লোডশেডিং-শুরু হওয়ার সাথে সাথে মশার মিছিল শুরু হয়। মশার আক্রমনে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহােেচ্ছ। স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা  মশারী টানিয়ে ও কয়েল  জ্বালিয়ে লেখা পড়া করছে।  

এলাকাবাসীর দুর্ভোগের দিক বিবেচনা করে লোডশেডিং-এর হার কমানোর জন্য এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোরালো অনুরোধ ও দাবী জানান।