ডুমুরিয়ায় আবাসন প্রকল্পের ঘর ভেঙে পড়েছে নদীতে, আরও ৪টি ঘর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা
গৌতম রাহা, ডুমুরিয়া (খুলনা) : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাঁঠালতলা আবাসন প্রকল্পের একটি ঘর নদীতে ভেঙে পড়েছে। শুক্রবার রাতে মনিরা বেগম নামে এক মহিলার ঘর ভদ্রা নদীতে ভেঙে পড়ে। বর্তমানে রওশনারা বেগম, ফরিদা বেগম, বিল্লাল হোসেন গাজী, আব্দুর রশিদ গাজীর আরও ৪টি ঘর নদীতে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে । ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মনিরা বেগমকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভাঙন ঝুকিতে থাকা বাকি ৪টি ঘরে বসবাসকারী পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।
সরজমিনে গিয়ে উক্ত ঘরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলা বাজারের সন্নিকটে ভদ্রা নদীর তীর ঘেষে গৃহহীনদের বসবাসের জন্য আবাসন প্রকল্পের আওতায় ২৬টি ঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নদীর তীর ঘেষে নদী খনন করায় ঘর গুলো ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। নদী খননের ৬ মাস যেতে না যেতেই ঘর ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে মনিরা বেগমের ঘরটি ভেঙে পড়েছে। আরও ৪টি ঘর ১/২ দিনের মধ্যে ভেঙে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে প্রকল্পে বসবাসকারীরা। জানা যায়, যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি নদীর ৮১ কিলোমিটার খনন কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শেষ হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ছিল ভদ্রা ও হরি নদীর খনন কাজ। এ নদীর পাড়ে রয়েছে সরকারের আবাসন প্রকল্প। ২০২১-২২ ও ২৩ অর্থ বছরে ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গৃহহীন ও বাস্তুহারা অসহায় মানুষের জন্য নদীর চর ভরাট করে সরকারিভাবে গড়ে তোলা হয় আবাসন প্রকল্প। শতাধিক পরিবার মাথা গোজার ঠাঁই পায় এখানে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে ঘর গুলো নির্মাণ না করায় চুকনগর, কাঁঠালতলা ও বরাতিয়া এলাকায় ১৩৯ টি ঘর ভদ্রা নদী খননের সময় ভাঙনের হুমকিতে পড়ে। অপরিকল্পিতভাবে প্রবাহমান নদীর চরে ঘর নির্মাণ করায় নদীর সীমানা সংকুচিত হয়ে পড়ে। এ কারণে ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নদী খনন প্রকল্পের সমঝোতা স্মারক হয় ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর নদী খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। এরপর এ প্রকল্পের আওতায় অভয়নগরের ভবদহ ২১ ভেল্ট স্লুইস গেট থেকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাশিমপুর এলাকা পর্যন্ত ভদ্রা ও হরি নদীর ১৫ কিলোমিটার, কাশিমপুর এলাকা হতে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত তেলিগাতী নদী ৫ কিলোমিটার পুনঃ খনন কাজ করা হয়। এতে কাঁঠালতলা আবাসন প্রকল্পের ২৬ টি ঘর বরাবর নদী খনন করতে হয় (ম্যাপ অনুযায়ী খনন করার কারণে)। এতে ঘর গুলো ভাঙ্গনের আশঙ্কা দেখা দেয়। কিন্তু নদী খনন কাজ শেষ করার পর যদি পাইলিং দেওয়া যেতো তাহলে আজ ঘর গুলো ভাঙ্গনের কবলে পড়তো না। শুক্রবার রাতে মনিরা বেগম নামে এক মহিলার ঘরটি ভদ্রা নদীতে ভেঙে পড়ে। বর্তমানে রওশনারা বেগম, ফরিদা বেগম, বিল্লাল হোসেন গাজী, আব্দুর রশিদ গাজীর আরও ৪টি ঘর ভেঙে পড়ার উপক্রম প্রায়। ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মনিরা বেগমকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকি ভাঙন ঝুকিতে থাকা ৪টি ঘরে বসবাসকারী পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উক্ত ঘরে বসবাস করছে। এব্যাপারে মনিরা বেগম, রওশনারা বেগম, ফরিদা বেগম, বিল্লাল গাজী, আব্দুর রশিদ গাজী বলেন, আমরা জীবন হাতে নিয়ে রাতে ঐ ঘরে ঘুমাচ্ছি। কখন না জানি মনিরা বেগমের ঘরের মত আমাদের ঘর গুলো নদীর উপর ভেঙে পড়ে। তাই আমরা ঘর গুলোর পিছন দিয়ে পাইলিং করে দেওয়ার জন্য মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলি আসগার লবি এমপি ও উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, কাঁঠালতলা আবাসন প্রকল্পের মানুষ গুলো ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে আছে। অনতিবিলম্বে ভাঙনের কবল থেকে তাদের রক্ষা করা জরুরী। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সোহেল রানা বলেন, কাঁঠালতলা এলাকায় আবাসন প্রকল্পের মনিরা বেগম নামে এক মহিলার ঘরটি নদীতে ভেঙে পড়ায় আমি সরজমিনে গিয়ে তাকে অন্য একটি ঘরে বসবাস করার ব্যবস্থা করে দিয়ে এসেছি। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার সাংবাদিকদের বলেন, কাঁঠালতলা আবাসন প্রকল্পের একটি ঘর নদীতে ভেঙে পড়ার বিষয়টি আমি জানি। আমরা উক্ত সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি।
