সড়ক দুর্ভোগ চরমে, খানাখন্দে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত, ভোগান্তিতে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা
মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতীর পহরডাঙ্গা বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। কালিয়া-চাপাইল সড়ক হয়ে গোপালগঞ্জ, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংস্কারের অভাবে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।
সড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে সড়ক ও গর্তের গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যানসহ ছোট যানবাহন চলাচলে তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন রোগী নিয়ে যানবাহন, শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে বিশেষ করে অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষকে নিয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ বাড়ছে। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
পহরডাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ীরাও সড়কটির দুরবস্থায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে পণ্যবাহী যানবাহন বাজারে আসতে সময় বেশি লাগছে। খারাপ সড়কের কারণে অনেক চালক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাতে অনাগ্রহী হওয়ায় পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই সড়কটি আমাদের জন্য শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি গোপালগঞ্জ, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। প্রতিদিন কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।”
আরেক পথচারী বলেন, “রাতে সড়কের গর্তগুলো আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। আলো-আঁধারিতে অনেক সময় গর্ত দেখা যায় না। মোটরসাইকেল চালক ও পথচারীরা দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকেন।”
স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট নয়, সড়কটির স্থায়ী ও টেকসই সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত করে বর্ষার পানি যাতে দীর্ঘসময় সড়কের ওপর জমে না থাকে, সেদিকেও কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে।
জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হবে এবং স্বাভাবিক ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।
