স্বামী ও শ্বশুরের নির্মম নির্যাতন ও দায়ের কোপে রক্তাক্ত জখম রুবাইয়া হাসপাতালে
প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, সোমবার, সময়ঃ ০৮.১৮ পি.এম
জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) :
আশাশুনি উপজেলার রাউতাড়া গ্রামের সোহরাব সরদারের কন্যা রুবাইয়া স্বামী ও শ্বশুরের নির্মম নির্যাতন দেশী অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রবিবার (১৬ আগস্ট) শ্যামনগরে স্বামীর বাড়িতে যৌতুকের দাবী পুরনে ব্যার্থ পিতার হতভাগা কন্যা রুবাইয়া খাতুন (২২) নির্মম নির্যাতনের শিকার হন।
জখমী রুবাইয়া খাতুন জানায়, ৬ বছর আগে শ্যামনগর গ্রামে শফিকুল ইসলামের ছেলে রাসেলের সাথে পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় গরীব পিতা জামাইকে নগদ টাকাসহ যথাসাধ্য সাংসারিক ও ব্যবহারিক মালপত্র দিয়েছিলেন। তাদের সংসারে সাড়ে ৩ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এক বছর বেশ ভালই ছিল তাদের সংসার। এক বছর পর শ্বাশুড়ির মৃত্যু হলে রাসেল ছন্নছাড়া হতে শুরু করে। মদ-গাঁজা খেয়ে সবকিছু হারাতে থাকে। স্ত্রীর সাথে সম্পর্কে কাটাছেড়া করতে থাকে। মাদকের টাকা যোগাতে শ্বশুর বাড়ি থেকে ২ লক্ষ টাকা আনার জন্য চাপ দিতে থাকে। শ্বশুর টাকার দাবী না মেটাতে পারলেও ৬ মাস আগে একটি মটর ভ্যান কিনে দেয় জামাইকে। ভ্যান চালানো টাকা মদ খেয়ে শেষ করে আবার স্ত্রীর উপর চাপ ও নির্যাতন চালাতে থাকে। ফলে সংসার জীবনে নেমে আসে উশৃংখলতা। গত রবিবার (১৬ আগস্ট) রুবাইয়াকে পিতা বাড়ি থেকে ২ লক্ষ টাকা আনতে কঠোর ভাবে চাপ দেয়। অপারগতা প্রকাশ করলে গোলযোগের এক পর্যায়ে স্বামী ও শ্বশুর মিলে নির্মম নির্যাতন চালায় রুবাইয়ার উপর। মারপিটের এক পর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে মাথায় আঘাত করতে গেলে রুবাইয়া হাত দিয়ে ঠেকালে হাত কেটে যায়। রুবাইয়া মাটিতে পড়ে গেলে তার পায়ে জোরালো কোপ মারলে বড় ধরনের জখম হয়।
খবর পেয়ে পিতা সোহরাব কয়েকজনকে সাথে নিয়ে ছটফট করতে থাকা মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়িতে আসেন এবং সোমবার সকালে থানা পুলিশকে দেখিয়ে তাকে আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রুবাইয়ার পায়ে সেলাই দিতে হয়েছে। হাতে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত প্রাপ্ত রুবাইর পরীক্ষার জন্য সাতক্ষীরায় নিতে বলা হয়েছে বলে সোহরাব সরদার জানান। এব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।
