কুপনেই মিলছে পছন্দের খাবার, কালিয়ায় মিড-ডে-মিলের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী, নড়াইল : স্কুলে প্রতিদিন একই ধরনের খাবার নয়, এবার শিক্ষার্থীরা নিজেদের রুচি ও পছন্দ অনুযায়ী বেছে নিতে পারবে খাবার। কুপন জমা দিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে নির্ধারিত দোকান থেকে খাবার গ্রহণের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ চালু হয়েছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলায়। কুপনভিত্তিক মিড-ডে-মিল পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের খাবার ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হলো নতুন মাত্রা।
রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের জোকা-বাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। উদ্বোধনের পর শিক্ষার্থীরা কুপন জমা দিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত মিড-ডে-মিল দোকান থেকে নিজেদের পছন্দের খাবার গ্রহণ করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিপা রানী সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) সাগর কুমার বিশ্বাস, সুশীলনের এরিয়া ম্যানেজার আব্দুর রহিম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম (ফুলমিয়া), সহসভাপতি কাজী মহসীন, স্থানীয় ইউপি সদস্য জোনায়েদ শরীফ, মহিলা সদস্য সানজিদা ইসলাম তিনা ও আরাফা সুলতানা।
এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের আটটি বিভাগের আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা বিভাগের একমাত্র নির্বাচিত বিদ্যালয় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে কালিয়ার জোকা-বাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এমন একটি ব্যতিক্রমী কর্মসূচির অংশ হতে পেরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, আগে বিদ্যালয়ে প্রতিদিন প্রায় একই ধরনের খাবার দেওয়া হতো। নতুন ব্যবস্থায় কুপন ব্যবহার করে নিজেদের রুচি অনুযায়ী খাবার বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি স্কুলে আসার আনন্দও বাড়বে বলে তারা মনে করছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যালয়ে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হলে তাদের স্কুলমুখী হওয়া, উপস্থিতি ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কালিয়ার এই পাইলটিং কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বিদ্যালয়েও এমন উদ্যোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
