ঢাকা সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬ ১৭ ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩৮ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

দক্ষিনাঞ্চলে অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে, শিকারীরা তৎপর

প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, সোমবার, সময়ঃ ০১.১১ পি.এম
দক্ষিনাঞ্চলে অতিথি পাখি আসতে শুরু  করেছে, শিকারীরা তৎপর
www.dailyranggaprovat.com

অরুণ কুমার বিশ্বাাস, পাইকগাছা (খুলনা) থেকে :

শীতের শুরুতে বিভিন্ন দেশ   থেকে আমাদের দেশের  দক্ষিণাঞ্চলে  আশ্রয় নিতে  আসে ঝাঁকে ঝাঁকে    অতিথি পা খি ।  কিন্তু  সৌখিন ও পেশাদারী  শিকারীর হাতে তারা নিধন হচ্ছে হরহামেশা। যার ফলে  আমাদের  দেশে প্রতিবছর অতিথি  পাখিদেওরসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।শীতের প্রচন্ডতা থেকে আত্মরক্ষার জন্য হাজার হাজার মাইল দূরে এশিয়া  মহাদেশের উত্তর সীমার  সাইবেরিয়া ,তিব্বতের উপত্যকা বৈকাল হ্রদের  তীরবর্তী  জায়গা , মধ্য এশিয়া র মঙ্গোলীর  ভ’মি, পশ্চিম জার্মনী, সোভিয়েত রাশিয়া, ফিনল্যান্ড প্রভৃতি স্থান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এসে দক্ষিণাঞ্চলে আমাদের হাওড়- বাওড়.নদ-নদী, খাল বিল, সাগরের বিভিন্ন মোহনায় বিচরণ করে, আবার  রাতের বেলা  গাছের ডালে আশ্রয় নেয়। সাগর পাড়ে তেমন  গাছ গাছালি  না থাকায় সুদূর বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সুন্দরবনে আশ্রয় নেয়। এবং রাত পোহালেই আহারের খোঁজে বিভিন্ন মোহনায়  বিচরণ করে। বাংলাদেশে  বিশেষ করে সমুদ্র সৈকতের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাসমূহে । কারণ শীতকালে ওখানে  একদিকে যেমন বরফে আচ্ছাদিত হয়ে যায, তেমনি অন্যদিকে দেখা দেয় প্রচন্ড খাদ্যাভাব। আর শীত ও খাদ্যাভাব থেকে বাচঁবার জন্যই ওরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসে গ্রীষ্ম প্রধান দেশসমূহে। তার মধ্যে বাংলা দেশ অন্যতম। আবার শীত শেষে ওরা ফিরে যায় নিজেদের দেশে  ।আমাদের দেশের কিছু সৌখিন ও পেশাদার শিকারী, যারা ব্যবসায়িক  ভিত্তিতে শিকার করে, তারা অতিথি পাখি দেখে শিকারের  প্রস্তুতি নিতে থাকে। অতিথি পাখি শিকার একটি দন্ডনীয় অপরাধ। তা সত্ত্বেও আইনের তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণীর অসাধু শিকারী রা দেদারছে পাখি   শিকার  করে যাচ্ছে। প্রতিদিন সৌখিন শিকারীদের হাতে নিধন হয় অসংখ্য পাখি। পেশাদার শিকারী রা ফাঁদ  পেতে এ সকল পাখিদের জীবন্ত ধরে শহরে কিংবা গ্রামাঞ্চলের হাট বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে থাকে। জানা  গেছে, মাংসের লোভ অপেক্ষা সৌন্দর্যের  লোভেই ক্রেতারা চড়াদাম  হলেও ঝুঁকে পড়ে অতিথি পাখিদের দিকে।  প্রশাষনের চোখে ধূলোদিয়ে অতিথি পাখিদের  নিধন ও বিক্রি  করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,বৃহত্তর খুলনা জেলার গ্রামাঞ্চলের কোন কোন হাট-বাজারে পেশাদার শিকারীরা অতিতি পাকিদের ধরে বিক্রি করচ্ছে। এদিকে  সৌখিন ও পেশাদার শিকারীদের হত্যার মহাড়ায় ভীত সন্ত্রস্ত হওয়ায় আমাদের দেশে অতিথি পাখিদের  সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। অতিথি পাখিরা ঠিকই আসে বেড়াতে কিন্তু স্বাধীনভাবে তারা বিচরণ করতে পারে না। আসার পথে যাদের  নিয়ে আসে যাবার  পথে অনেকেরই খোঁজ মেলে না্ পাখি জরিপের রিপোর্ট  থেকে জানা যায়,প্রতিবছর শিকারীদের হাতে পাকি নিধনের ফলে  স্বাধীনতার   পর থেকে এ পর্যন্ত  অতিথি পাখি হ্রাস পেতে  পেতে ৩০ শতাংশে এসে পৌছেছে।  এ ভাবে চলতে থাকলে   আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এদেশে অতিথি  পাখির আগমন বন্ধহয়ে যাবে বলে  বিশেষঞ্জ মহলের ধারণা। এ অঞ্চলে বতৃমান হাটে- বাজারে প্রশাষণের নজর এড়িয়ে  কাইন,নলখাগড়া, কোড়া, বারিহাঁস জাতীয় অতিথি পাখিরা শিকারেিদর হাতে ধরা  পড়ছে এবং বিক্রি করা হচ্ছে। বিরল প্রজাতির অতিথি পাখিরা  মওসুমের শোভা। এরা  পরিবেশের  ভার সাম্র বজায় রাখে্ এদের  বাঁচিয়ে রাখা দরকার। অতিথি পাখি নিধন আইন আরও কঠোর করা প্রয়োজন  ,যাতে কোন  ব্যবসায়িক  িিশকারী ও সৌখিন শিখারী অবাদে পাখি শিকার করতে না পারে। । যাতে স্বাধীন ভাবে  পাখিরা  বিচরণ করতে পারে।  যারা  শীত মওসুম আসলেই হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এ দেশে আসে  আর  শীত শেষে  আবার আপন দেশে ফিরে যায়।  তাদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সকলের। অতিথি  পাখির আগমন  এদেশে   নতুন  নয় ।  সেই   আদিম যু গ  থেকে পাখিরা আসছে  এখনও  তাদের  আগমন অব্যাহত     রয়েছে ।