নড়াইলে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ
মনিরুজ্জামান চৌধুরী, নড়াইল : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় তুলি বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামী রবিন মোল্যার (২৫) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের বেলটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে বেলটিয়া গ্রামের সাকায়েত মোল্যার ছেলে রবিন মোল্যার সঙ্গে তুলি বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য রবিন স্ত্রীকে চাপ দিতেন বলে অভিযোগ করেছেন তুলির পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে তুলির বাবা ইলিয়াস শেখ জামাইকে ৫০ হাজার টাকা দেন। তবে এরপরও আরও টাকার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।
শুক্রবার রাতে তুলি ও রবিনের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরদিন ভোরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তুলির মরদেহ উদ্ধার করে।
তুলির বাবা ইলিয়াস শেখ অভিযোগ করেন, তার মেয়ের গলা, কান, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যৌতুকের টাকার জন্য রবিন ও তার পরিবারের সদস্যরা তুলিকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছেন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে নিহতের পরিবারের এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রবিন মোল্যার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
