ঢাকা শনিবার ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ২২ ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৪ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

মাগুরায় ক্লু-লেস দুই চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, আলোচনায় পুলিশ সুপার

প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার, সময়ঃ ০৩.০১ পি.এম
মাগুরায় ক্লু-লেস দুই চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, আলোচনায় পুলিশ সুপার
www.dailyranggaprovat.com

সুব্রত সরকার, মহম্মদপুর (মাগুরা) থেকে : মাগুরায় পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা এবং ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির মতো চাঞ্চল্যকর দুটি ক্লু-লেস মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ধারাবাহিক তদন্ত, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা তৎপরতায় অপরাধের নেপথ্যের পরিকল্পনা, অর্থের লেনদেন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১ জনকে। উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া স্বর্ণের একটি বড় অংশ। আলোচিত এ দুটি মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে নেতৃত্ব দিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম (সেবা)।

তিনি ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর বুধবার ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে গত ৬ অক্টোবর রামনগর বাজার এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানকে নামিয়ে হলিনগর গ্রামের একটি মেহগনিবাগানে নিয়ে ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতি করেন। 

তদন্তের একপর্যায়ে স্বর্ণ ডাকাতির পর লুট হওয়া স্বর্ণের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরেই শাকের হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। অর্থের লেনদেন, হত্যার পরিকল্পনা ও অপরাধের নেপথ্যের নানা তথ্য সামনে আসার পর একের পর এক অভিযান চালিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া স্বর্ণের একটি অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর  মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মারুফ হোসেনসহ এ পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ, বুলেট, খালি কার্তুজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল ও একটি টয়োটা ভিটজ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এ দুটি মামলার তদন্ত ও অভিযান পরিচালনায় পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের সরাসরি নির্দেশনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসান, পিপিএমের নেতৃত্বে তদন্ত ও অভিযান পরিচালিত হয়।

এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন উপকারভোগী জানান, শুধু চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা অপরাধীদের গ্রেপ্তারই নয়, সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যায় দ্রুত আইনি সহযোগিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁর নেতৃত্বে জেলা পুলিশের তৎপরতা অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

এ বিষয়ে নিহত শাকের হোসেনের মামা ও বিএনপি নেতা কুতুবউদ্দিন বলেন, “দুটি আলোচিত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি অপরাধের নেপথ্যে থাকা অর্থের লেনদেন, হত্যার পরিকল্পনা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে পুরো বিষয়টি উন্মোচন করেছে মাগুরা জেলা পুলিশ। এ জন্য পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিকতার কারণেই এ সফলতা এসেছে।

পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু। পুলিশের মূল কাজ হলো অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা। সম্প্রতি মাগুরায় শাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডের কোনো দৃশ্যমান ক্লু ছিল না। তারপরও জেলা পুলিশের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে সফল হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে মাগুরার সাধারণ মানুষের সহযোগিতা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। জনগণ পাশে ছিল বলেই আমরা সফলভাবে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, মাগুরার সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আমার অনুরোধ, সবাই আইন মেনে চলবেন। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। কোনো অপরাধ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। জনগণের সহযোগিতা নিয়েই একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত মাগুরা গড়ে তুলতে আমরা কাজ করতে চাই।