সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল
শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সদ্য ঘোষিত সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের আংশিক কমিটিতে প্রত্যাশিত পদ না দেওয়ায় কলারোয়ায় মমতাজুল ইসলাম চন্দনের সমর্থক যুবদল-ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী যশোর- সাতক্ষীরা মহাসড়কের কলারোয়া সরকারি কলেজ সংলগ্ন বাস স্ট্যান্ডে রাস্তায় বসে তারা সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে।
এ সময় রাস্তার দুই পাশে বাস-ট্রাক ভ্যান-ইজিবাইক সহ শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। ফলে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা বিপাকে পড়েন।
২০ সেপ্টেম্বর বিকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যায়, হাফিজুর রহমান মুকুলকে সভাপতি ও শফিকুল আলম বাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এই কমিটির প্রতিবাদে রোববার বিকাল সাড়ে চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী কলারোয়া উপজেলা ও পৌর যুবদল , ছাত্রদল, তাঁতী দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রথমে কলারোয়া পৌর সদরের প্রধান প্রধান সড়ক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। পরে বিক্ষোভকারীরা যশোর- সাতক্ষীরা মহাসড়কের কলারোয়া সরকারি কলেজ সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডে রাস্তায় বসে সড়ক অবরোধ করেন।
বিক্ষোভকারী যুবদল কর্মী, আলতাফ হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা আবির হোসেন, ফয়সাল হোসেন সহ একাধিক নেতা কর্মীরা জানান, সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সদ্য ঘোষিত ওই ৫ সদস্য কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মমতাজুল ইসলাম চন্দনকে রাখা হয়েছে। যেটি কলারোয়ার যুবদল ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠন মানতে পারছে না। কারণ ওই মমতাজুল ইসলাম চন্দন বিগত দীর্ঘ ১৭ টি বছর ৪৮ টি মামলার মুখে পড়েছেন। একাধিকবার জেল খেটেছেন। বিভিন্ন সময়ে হামলার শিকার হয়েছে। কলারোয়াসহ সমগ্র সাতক্ষীরা জেলার আটটি থানায় নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে তিনি তৎকালীন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের কমিটিতে মমতাজুল ইসলাম চন্দনকে সাধারণ সম্পাদক না করা পর্যন্ত তারা এভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এদিকে মমতাজুল ইসলাম চন্দন ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারী নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা অযথা বিক্ষোভ করবেন না , সাধারণ মানুষের এভাবে হয়রানি করবেন না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নির্দেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক যে কমিটি দিয়েছেন সেই কমিটি আমাদের মেনে নিতে হবে। এর বিকল্প কিছু ভাবা যাবে না। এই বলে বিক্ষোপকারী নেতাকর্মীদের সড়ক অবরোধ থেকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে পুলিশ ওই ঘটনাস্থলে এসে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কে শত শত যানবাহন আস্তে আস্তে চালু করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান রিমু বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
