কলাপাড়া সৌর বিদ্যুৎ সুবিধা নিয়ে আলোচনা
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ, বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুবিধা, সম্ভাবনা ও সম্প্রসারণের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কলাপাড়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সৌরবিদ্যুৎ বিষয়ে জনগণের জ্ঞান, প্রচলিত ভুল ধারণা, সম্ভাবনা ও বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিয়ে একটি নীতিপত্র উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-পটুয়াখালী, প্রান্তজন, কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ক্লিন) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর যৌথ উদ্যোগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-পটুয়াখালীর আহ্বায়ক অমল মুখার্জী। প্রধান অতিথি ছিলেন কলাপাড়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শেখ আব্দুর রহমান, কুয়াকাটা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোস্তফা আমিনুর রাশেদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মোছেদুল আলম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ জুলহাস-উল-আজাদ, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর কলাপাড়া সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি মনোয়ারা বেগম, কলাপাড়া পৌর শহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম, স্থপতি ইয়াকুব খান, গণমাধ্যমকর্মী তানজিল জামান জয় প্রমুখ।
এছাড়া স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভা সঞ্চালনা করেন পরিবেশ সংগঠক নজরুল ইসলাম। সভার শুরুতে "ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুযোগ ও সম্ভাবনা" বিষয়ক নীতিপত্র উপস্থাপন করেন প্রান্তজন-এর ফিল্ড কোর্ডিনেটর সাইফুল্লাহ মাহমুদ।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে। এই নির্ভরতা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, ভর্তুকি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও চাপ তৈরি করছে।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যা দিয়ে প্রায় ৩২,৪০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব হতো।
বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় হ্রাস, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখতে পারে।
সভায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সচেতনতার ঘাটতি, প্রচলিত ভুল ধারণা, প্রাথমিক বিনিয়োগের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, গ্রিড সংযোগ, নীতিগত সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় স্থানীয় পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ এবং জনগণের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতকে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যভিত্তিক সংলাপ ও অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তর, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে
