৩৫ বছরের প্রবাসজীবন শেষে জামাল হোসেনকে বিদায়ী সংবর্ধনা
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি : কুয়েতের ঐতিহ্যবাহী সারা প্লাজায় জমকালো ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা সোসাইটি কুয়েত’-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। একই অনুষ্ঠানে দীর্ঘ ৩৫ বছরের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে যাওয়া সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও বরিশালের কৃতী সন্তান জামাল হোসেনকে দেওয়া হয়েছে বিদায়ী সংবর্ধনা ও ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা সম্মাননা’।
প্রবাসীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা, আলোচনা, সম্মাননা প্রদান ও আবেগঘন বিদায়পর্ব। দীর্ঘদিন প্রবাসজীবনে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা জামাল হোসেনকে ঘিরে অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেমিট্যান্স যোদ্ধা সোসাইটি কুয়েতের সভাপতি আ.ক.ম. আজাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ আব্দুল করিম।
আয়োজকরা বলেন,
জীবিকার তাগিদে মাত্র ২২ বছর বয়সে কুয়েতে পাড়ি জমান জামাল হোসেন। এরপর দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক প্রবাসে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের পরিবার ও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। প্রবাসজীবনের ৩৫ বছর পূর্ণ করে এবার স্থায়ীভাবে স্বদেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা শুধু নিজেদের পরিবারের জন্য নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রতিকূল পরিবেশে দিনের পর দিন শ্রম দিয়ে তারা দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা এসব মানুষের আত্মত্যাগ ও অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
জামাল হোসেনের দীর্ঘ প্রবাসজীবনের প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা বলেন, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় দেশের বাইরে কাটিয়ে তিনি পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য অবদান রেখেছেন। ২২ বছর বয়সে কুয়েতে এসে ৩৫ বছর পর স্বদেশে ফেরার এই যাত্রা শুধু একজন প্রবাসীর বিদায় নয়, বরং দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি।
এ সময় জামাল হোসেনকে সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও বিদায় জানানো হয়।
