আশাশুনিতে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান ও সবজী চাষ হয়েছে
জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) : আশাশুনি উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান ও সবজী চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায়ও বেশী। স্বাভাবিক আবহাওয়া বিরাজ করলে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে ও পোকা-মাকড়ের আক্রমন রোধ করা গেলে চলতি মৌসুমে কৃষকরা আশানুরূপ ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে আমন ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্দ্ধারন করেছিল ৯২২২ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্য অর্জনে উপজেলা কৃষি বিভাগ উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব দিয়ে কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে এসেছেন। তাছাড়া মৎস্য ঘেরে ধান চাষে কৃ্ষকদের উদ্বুদ্ধ করায় মৎস্য ঘেরেও ধান চাষ করেছেন কৃষকরা। ফলে কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ্ব ও সহযোগিতা পেয়ে আমন ধান চাষে মনযোগী হন এবং ৯ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করতে সক্ষম হন। গত ২০২৫-২৬ বছরে উপজেলায় ৯ হাজার ২২২ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছিল। এবছর একই সাথে চাষীরা ১৪৫ হেক্টর জমিতে আওশ ধানের চাষ করেছেন। চলতি মৌসুমে আল্লাহর রহমতে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করলে প্রতি হেক্টরে ২.৮ মেঃটন হিসেবে ২৬ হাজার ২১৮ মেঃ টন চাল উৎপাদন হবে বলে কৃষি অধিদপ্তর ধারনা করছে।
গত মৌসুমে আশাশুনি উপজেলায় ৪১২ হেক্টর জমিতে সবজী চাষ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে সবজী চাষও বেশী হয়েছে। এবছর ৫২০ হেক্টর জমিতে সবজী চাষ করা হয়েছে। এছাড়া মৎস্য ঘেরের আইলে/বাঁধের উপর ১৮৭ হেক্টর জমিতে সবজী চাষ হয়েছে। বাড়ির পতিত জমিতে আদা চাষে কৃষকরা খুব বেশী সম্পৃক্ত না হলেও উপজেলার কোনন কোন এলাকায় কমবেশী আদা চাষ হয়ে থাকে। এবছর কৃষি বিভাগের তৎপরতায় ভিন্ন ব্যবস্থাপনায় কিছু কৃষক বস্তায় আদা চাষ করেছেন। কৃষি বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ৪ হাজার ৫২০টি বস্তায় কৃষকরা আদা চাষ করেছেন। প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ১০০ গ্রাম করে আদা বপন করা হয়। গাছের লক্ষণ দেখে আশা করা হচ্ছে প্রতি বস্তায় ৮০০ গ্রাম থেকে ১০০০ গ্রাম পরিমাণ আদা উৎপাদন হতে পারে। তাছাড়া আশাশুনি উপজেলায় পানি ফল চাষ কয়েক বছর ধরে লাভজনক হয়ে উঠেছে। চাষ উপযোগি পুকুর/জলাশয়ে চাষীরা পানি ফল চাষ করে থাকেন। এবছর ৮ হেক্টর জমিতে পানি ফলের চাষ করা হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুস সোবহান জানান, আশাশুনি উপজেলায় কৃষকদের নানা পরামর্শ্ব ও সহযোগিতা দিয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে থেকে সার্বক্ষণিক ভাবে কৃষি উন্নয়নে কাজ করে আসছে। ফলে ধান চাষে লক্ষ্যমাত্রা আর্জিত হয়েছে। মাঝে মধ্যে বৃষ্টি ও আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ফসলের বর্তমান পরিস্থিতি খুবই ভাল আছে। পোকার আক্রমন কম আছে। শীত আসলে পোকার আক্রমন বাড়তে পারে। সেজন্য পূর্ব সতর্কতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। সার্বিক পরিবেশ অনুকূল থাকলে ইনশাল্লাহ সর্বোচ্চ ফসল ঘরে উঠবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
