কালিয়ার নড়াগাতীর চাপাইল সেতুতে দূর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে
নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের চাপাইল সেতুর পশ্চিম পাড়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। গুরুত্বপূর্ণ চাপাইল-কালিয়া প্রধান সড়কের নড়াইল জেলার অংশে সেতু-সংলগ্ন সড়কের পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হলেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চাপাইল সেতু দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি এ সড়ক ব্যবহার করেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফলে সেতুর পশ্চিম পাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি শুধু যানবাহন নয়, পথচারীদের জন্যও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সড়কের এ অংশে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন এবং আশপাশের এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তবে চাপাইল সেতু এলাকায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, সড়কটি তাদের দৈনন্দিন যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কালিয়া উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ অংশে যান চলাচলের সময় চালক ও যাত্রীদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে বলে তাদের অভিযোগ।
চাপাইল-কালিয়া সড়কটি নড়াগাতী ও কালিয়ার সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করা না গেলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসী দ্রুত চাপাইল সেতুর পশ্চিম পাড় সরেজমিনে পরিদর্শন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চাপাইল-কালিয়া প্রধান সড়কের পুরো ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পরীক্ষা করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষায়, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি নিরাপদ করা জরুরি। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে চাপাইল সেতু ও সংলগ্ন সড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করবে।
