কলারোয়ায় দৃষ্টিনন্দন কাঠ-বাঁশের সাঁকোতে বদলে গেল পারাপারের চিত্র
শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : কলারোয়া পৌরশহরের কাঁচাবাজার সংলগ্ন বেত্রবতী নদীর ওপর নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন লাল-সাদা রঙের কাঠ-বাঁশের সাঁকো। প্রায় দুই মাস আগে পানির তীব্র স্রোতে পুরোনো সাঁকোটি ভেসে যাওয়ার পর দুই পাড়ের মানুষের নদী পারাপারে যে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছিল, নতুন সাঁকো চালু হওয়ায় তা আপাতত অনেকটাই কমেছে। লাল-সাদা রঙে রাঙানো নতুন সাঁকোটি এখন স্থানীয়দের পারাপারে স্বস্তির পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশেও যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
গত ১২ জুলাই বেত্রবতী নদীর পানির তীব্র স্রোতে পুরোনো কাঠের সাঁকোটি ভেসে যায়। এরপর প্রায় এক মাস আট দিন ধরে সাঁকোর পরিবর্তে নৌকায় নদী পারাপার করতে হয়েছে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কর্মজীবী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত ও নৌকায় পারাপারের ঝুঁকিতে চরম দুর্ভোগে পড়েন দুই পাড়ের বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সাঁকোটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তাঁর প্রচেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন কাঠ-বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। পরে এটি পারাপারের জন্য খুলে দেওয়া হলে নৌকার জন্য অপেক্ষা না করে মানুষ সরাসরি সাঁকো দিয়ে নদী পার হওয়ার সুযোগ পান।
নতুন সাঁকোটিতে দুই পাশে নিরাপত্তার জন্য রেলিং দেওয়া হয়েছে। লাল-সাদা রঙে রাঙানো সাঁকোটি দেখতে দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে সাঁকোটি দিয়ে কেবল পায়ে হেঁটে চলাচল করা যাবে; মোটর সাইকেলসহ কোনো যানবাহন চলাচলের অনুমতি নেই।
সাঁকোর প্রবেশমুখে তদারকি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে সাঁকো ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবলম্বন এবং ঝুঁকি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নতুন সাঁকো চালু হওয়ায় বেত্রবতী নদীর দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কর্মজীবী ও সাধারণ পথচারীরা এখন সহজেই কলারোয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করতে পারছেন। অস্থায়ী হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে পারাপারের ব্যবস্থা করে দেওয়ায় স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবারে বিষয়ে আলাপকালে কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মীর রফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর দাবি-বেত্রবতী নদীর ওপর একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণ। কেননা, কাঠ-বাঁশের সাঁকো বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেসে যায় বা ঝুঁকিতে থাকে। তাই স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সকলেই।
এ বিষয়ে পৌরসভার প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, বেত্রবতী নদীর ওপর একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অফিসিয়াল প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সেখানে পাকা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রস্তাবটি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের পারাপারের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর হবে এবং কলারোয়া বাজারের সঙ্গে দুই পাড়ের যোগাযোগ আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে।
