ঢাকা বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩৬ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

মাগুরায় ৫০৬ কোটি টাকার অবাস্তব বিদ্যুৎ বিলে জিএম বরখাস্ত

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, সময়ঃ ০৯.০৩ পি.এম
মাগুরায় ৫০৬ কোটি টাকার অবাস্তব বিদ্যুৎ বিলে জিএম বরখাস্ত
www.dailyranggaprovat.com

সুব্রত সরকার, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি : মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এক মাসেই বিল এল ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি! মাগুরায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এই ভূতুড়ে ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বিল তৈরি করা হয়েছে। খবরটি নজরে আসার পরপরই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ নিজে ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. মহিতুল ইসলামকে বরখাস্ত করে।

ঘটনাটি ঘটে মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে। সেখানকার বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের এই অবাস্তব বিলটি পাঠানো হয়।

প্রাপ্ত বিলের কাগজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গ্রাহক গত এক মাসে ব্যবহার করেছেন মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ। আবাসিক গ্রাহক হিসেবে যার আসল বিল আসার কথা ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা (বিলম্ব মাশুলসহ ২ হাজার ৫৬ টাকা)। কিন্তু অলৌকিকভাবে সেই বিলে শুধু ‘ডিমান্ড চার্জ’ হিসেবেই বসিয়ে দেওয়া হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা! এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার বেশি ভ্যাট ও মিটার ভাড়া যোগ হয়ে মোট বিলের অঙ্ক দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। এমনকি নির্ধারিত সময় পার হলে বিলম্ব মাশুলসহ সেই বিল ধরা হয় ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ওপরে!

হাস্যকর ও অবিশ্বাস্য এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুন এই চরম খামখেয়ালিপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি শুধু ভূতুড়ে বিল নয়, একেবারে আজগুবি। কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বহীনতার জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন।’

বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহককে ফোন করে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জানান যে ভুল সংশোধন করে এরই মধ্যে সঠিক বিলটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়লে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধও জানান মন্ত্রী।

এ বিষয়ে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম ভুলের সত্যতা স্বীকার করে জানান, গ্রাহকের মিটারের সিল পরিবর্তন করার সময় অসাবধানতাবশত সিলের ডিজিটাল নম্বরটি ‘ডিমান্ড চার্জের’ ঘরে উঠে যায়। যার ফলেই এই অপ্রত্যাশিত জটিলতা তৈরি হয়েছিল।