সাতক্ষীরা বাকশিস নির্বাচনে বিএনপিপন্থী খলিলুর-নূর-ওহাব পরিষদের নিরঙ্কুশ জয়
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : উৎসবমুখর পরিবেশ, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) সাতক্ষীরা জেলা শাখার ১০ম ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে অধ্যক্ষ মো. খলিলুর রহমান, অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ পাড় ও প্রভাষক জি এম আব্দুল ওহাব নেতৃত্বাধীন বিএনপি সমর্থিত প্যানেল নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকমণ্ডলী ও কার্যকরী পরিষদের সবকটি পদেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে পূর্ণ প্যানেলে জয় নিশ্চিত করেছেন এই পরিষদের প্রার্থীরা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গণনা সম্পন্ন করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মুর্শিদ আলম। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শহীদ জিয়া কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম।
সভাপতি পদে খলিলুর-নূর-ওহাব পরিষদের প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. খলিলুর রহমান ৩৩৪ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত/বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াত সমর্থিত .মো: আশফাকুর রহমান পেয়েছেন ১৯৬ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক: পদে অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ পাড় ৩৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াত সমর্থিত এস. এম. সফিউল ইসলাম পেয়েছেন ১৯৫ ভোট।
সাংগঠনিক সম্পাদক:পদে জি এম আব্দুল ওহাব ৩৭৪ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াত সমর্থিত মো:. আকবর হোসেন পেয়েছেন ১৮৫ ভোট।
অফিশিয়াল রেজাল্ট শিট অনুযায়ী সহ-সভাপতি পদে বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন: এস. এম. শহিদুল আলম (৩৪৮ ভোট – ১ম), মো:. অলিউল ইসলাম (৩৪২ ভোট – ২য়),
মোহাম্মদ আবুল কালাম (৩৩৯ ভোট – ৩য়), মো:. আজিয়ার রহমান (৩৭৪ ভোট – ৪থ), শিব পদ গাইন(৩১৩ ভোট – ৫ম), যুগ্নু সাধারণ সম্পাদক:পদে মো. শাহাদাৎ হোসেন (৩৪৫ ভোট) বিজয়ী। (নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আবদুর রউফ পেয়েছেন ১৮৫ ভোট)।
সহ সম্পাদক (২টি পদে )মো. সাইফুর রহমান (৩৪১ ভোট – ২য়) এবং মো. রফিকুল ইসলাম (৩৪৫ ভোট – ১ম) বিজয়ী হয়েছেন।
কোষাধ্যক্ষ পদে মো. আবদুল জব্বার (৩৫১ ভোট) বিজয়ী। (প্রতিদ্বন্দ্বী বখতিয়ার উদ্দিন পেয়েছেন ১৮৫ ভোট)।
দপ্তর সম্পাদক:মো. আরিফ হোসেন (৩৪৮ ভোট) বিজয়ী। (প্রতিদ্বন্দ্বী মো. টিপু সুলতান বিশ্বাস পেয়েছেন ১৭৪ ভোট)।
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মো. ইদ্রিস আলী (৩৪৪ ভোট) বিজয়ী। (প্রতিদ্বন্দ্বী মুহা. ইবাদুল ইসলাম পেয়েছেন ২৯ ভোট)।
প্রকাশনা ও প্রচার সম্পাদক: পদে মো. নাজমুল হক (৩৫৯ ভোট) বিজয়ী। (প্রতিদ্বন্দ্বী নূর হোসাইন পেয়েছেন ১৭৪ ভোট)।
গণসংযোগ সম্পাদক: পদে শেখ রফিকুল ইসলাম (৩৪০ ভোট) বিজয়ী। (প্রতিদ্বন্দ্বী মো. হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ৮৫ ভোট)।
সমাজ কল্যাণ সম্পাদক: পদে আসিফ বায়েজীদ (৩৫১ ভোট) বিজয়ী। (প্রতিদ্বন্দ্বী মো. হুমায়ুন কবীর পেয়েছেন ৮ stroke/৮০ ভোট)।
ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. আরিফুল ইসলাম (২৭৪ ভোট) বিজয়ী। (প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী মো. তৌহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ১৯৯ ভোট)।
মহিলা সম্পাদক:পদে জাসরিন আক্তার বানু (৩৭০ ভোট) বিজয়ী। (প্রতিদ্বন্দ্বী মোমেনা খানম পেয়েছেন ২০৪ ভোট)।
সহ মহিলা সম্পাদক:পদে চম্পা রানী হাজরা (৩৪৭ ভোট) বিজয়ী। (প্রতিদ্বন্দ্বী মাহাহুরা খাতুন পেয়েছেন ১৮৩ ভোট)। কার্যকরী সদস্যবৃন্দ (বিজয়ী সকল সদস্য):
অফিশিয়াল রেজাল্ট শিট অনুযায়ী কার্যকরী সদস্য পদসমূহে বিপুল ভোটে নির্বাচিতরা হলেন মো. বাবুলুর রহমান (৩৮৬ ভোট), মো. রেজাউল করিম (৩৮৩ ভোট), মো. নওশাদ আলম (৩৮৩ ভোট), শঙ্কর কুমার সরকার (৩৮২ ভোট), এস. এম. শফিকুল আজম (৩৬৫ ভোট), মো. কামরুজ্জামান (৩৬৭ ভোট), মো. তোফাজ্জল হোসেন (৩৬১ ভোট), মো. তৌহিদুর রহমান-১ (৩৫৮ ভোট), মো. শাহিন হোসেন (৩৪৫ ভোট), বাসুদেব কুমার সিংহ (৩৩৯ ভোট), মো. আমজাদ হোসেন (৩৩৪ ভোট), মো. আবদুল মান্নান (৩৩২ ভোট), অনু রতন তৌফিক উদ্দীন আহমেদ (৩৩৬ ভোট), মো. ইয়াসিন আলী (৩৬৩ ভোট), রবীন্দ্রনাথ কর্মকার (৩৪১ ভোট), অমরেন্দ্র নাথ মূরা (৩২৬ ভোট), পরেশ কুমার পাল (৩৪৩ ভোট), স. ম. আবদুল মান্নান (৩৪৩ ভোট), হারুন-অর-রশিদ (৩৪৮ ভোট), আবুল হাসান মো. ফিরোজ কবীর (৩৬৬ ভোট), এস. এম. কামরুজ্জামান (৩৫৫ ভোট), শেখ মঞ্জুরুল ইসলাম (৩৫৫ ভোট), পরমেশ চন্দ্র ধরাमी (৩৫৫ ভোট), মো. আনারুল ইসলাম (৩৫৭ ভোট), মো. আহসান হাবিব (৩৭২ ভোট), মো. আশফাকুর রহমান (৩৮০ ভোট), বি. এম. আশরাফ উদ্দীন (৩৬৩ ভোট), সরদার নুরুল ইসলাম (৩৬৯ ভোট), মো. শফিউল আলম (৩৪২ ভোট), মধুসুদন মণ্ডল (৩৪০ ভোট), সন্দীপ দাস (৩৬৫ ভোট), নাজমুল হাসান (৩৭৪ ভোট) এবং পবিত্র কুমার মণ্ডল (২৭৮ ভোট) পেয়ে নির্বাচিত হন।
নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই কেন্দ্র প্রাঙ্গণে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জেলার দূর-দূরান্তের বিভিন্ন ডিগ্রি ও ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আগত শিক্ষকদের প্রাণবন্ত আড্ডায় পুরো কেন্দ্র প্রাঙ্গণ যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্যানেলের সমর্থক ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ শিক্ষক উল্লাসে ফেটে পড়েন।
বিজয়ী নেতারা তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "এই বিজয় সাতক্ষীরা জেলার সমগ্র শিক্ষক সমাজের আমানত ও ভালোবাসার প্রতীক। আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য আমরা সাধারণ শিক্ষকদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। আগামী দিনে বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের পেশাগত অধিকার রক্ষা, পদোন্নতি, বৈষম্য দূরীকরণ ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আমরা রাজপথ এবং টেবিলে একযোগে কাজ করে যাব।"
এদিকে খলিলুর-নূর-ওহাব পরিষদের এই নিরঙ্কুশ বিজয়ে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সভাপতি রহমতুল্লাহ পলাশ এবং সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু। নেতৃবৃন্দ বিজয়ী কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নবনির্বাচিত নেতৃত্ব শিক্ষকদের অধিকার আদায় ও শিক্ষার মানোন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
