ঢাকা শুক্রবার ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ২৪ ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৪ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

কলারোয়ায় এবার ৪৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, ঝুঁকিপূর্ণ নয় একটিও

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, সময়ঃ ০৭.৩১ পি.এম
কলারোয়ায় এবার ৪৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, ঝুঁকিপূর্ণ নয় একটিও
www.dailyranggaprovat.com

শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :  দুর্গোৎসবের বাকি আর মাত্র সাত দিন। শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কলারোয়া উপজেলাব্যাপী সকল মণ্ডপে ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিমা শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমার অনুপম রূপ দেওয়ার শেষ মুহূর্তের কাজে। রঙ-তুলির বর্ণিল পরশে প্রতিমা-বিগ্রহ মোহনীয় সাজে সজ্জিত করা হচ্ছে। কেননা, হাতে সময় নেই একেবারে। আবহাওয়া মোটামু্টি সুপ্রসন্ন থাকায় প্রতিমার রঙের কাজে তেমন বিঘ্ন ঘটেনি কোথাও। প্রতিমায় শেষ পরশে রাঙিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে বিরামহীনভাবে। হাতে ফুরসত নেই প্রতিমাশিল্পীদের। তারপরেও সকল কাজ সমাপ্তির পথে। উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে প্রায় অভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। রঙের কাজও হয়ে গেছে প্রায় সবখানে। বৃহস্পতিবার  পৌরসভাধীন তুলসিডাঙ্গা ঘোষপাড়া মাতৃমন্দির, উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া ও গোয়ালঘাটা পূজা মন্ডপে যেয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব এই দুর্গাপূজাকে ঘিরে এখন তাদের ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ। হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রতিটি ঘরের সব বয়সী মানুষ সময় পেলেই চলে আসেন মন্ডপে প্রতিমা তৈরি ও রাঙিয়ে দেওয়ার কাজ নিজ চোখে দেখতে।  । সবখানে সম্প্রীতিময় পরিবেশ বিরাজ করায় তাঁরা উপজেলার সকল ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। কলারোয়া উপজেলায় এবার ৪৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। এর আগের বছর ৪৫ টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হয়েছিলো। গত ৭ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে দুর্গাপূজার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় জানানো হয়, এবার  উপজেলার ৪৬টি মণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।   উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরও জানান, উপজেলার ৪৬ পূজামণ্ডপের কোনোটিও ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কলারোয়া উপজেলার ৪৬ পূজামণ্ডপের নাম তুলে ধরা হলো। কলারোয়া পৌরসভার ৮টি মণ্ডপ হলো: তুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া সর্বজনীন, তুলসীডাঙ্গা গোয়ালঘাটা সর্বজনীন, উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া, মুরারিকাটি দক্ষিণ পাড়া, মুরারীকাটি দক্ষিণ হরিসভা, গোপিনাথপুর ঘোষপাড়া সর্বজনীন. গোপিনাথপুর দক্ষিণ পাড়া সর্বজনীন ও ঝিকরা হরিতলা সার্বজনীন পূজা মন্ডপ। জয়নগর ইউনিয়নের ৮টি পূজামণ্ডপ হলো: খোর্দ্দ-বাটরা সর্বজনীন, ধানদিয়া দাসপাড়া সর্বজনীন , জয়নগর মাঝের পাড়া, দক্ষিণ জয়নগর তরুণ সংঘ, গাজনা-বসন্তপুর কর্মকার পাড়া, উত্তর জয়নগর দাসপাড়া আনন্দ সংঘ সর্বজনীন, উত্তর জয়নগর দাসপাড়া সর্বজনীন পূজামণ্ডপ ও ক্ষেত্রপাড়া দাসপাড়া সর্বজনীন পূজা মন্দির । জালালাবাদ ইউনিয়নের ৩টি পূজামণ্ডপ হলো: কাশিয়াডাঙ্গা সর্বজনীন, বৈদ্যপুর দাসপাড়া ও বাঁটরা দাসপাড়া সর্বজনীন। কয়লা ইউনিয়নের ২টি পূজামণ্ডপ হলো: কয়লা ঘোষপাড়া সর্বজনীন ও শ্রীপতিপুর দাসপাড়া, লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের ২টি পূজামণ্ডপ হলো: লাঙ্গলঝাড়া সর্বজনীন ও খাসপুর সর্বজনীন। কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের ৩টি পূজামণ্ডপ হলো: আইচপাড়া পালপাড়া, বাকসা সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও বাকসা পূর্বপাড়া সর্বজনীন পূজামণ্ডপ। সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের একমাত্র পূজামণ্ডপ হলো: সোনাবাড়িয়া মঠমন্দির। চন্দনপুর ইউনিয়নের ২টি পূজামণ্ডপ হলো: গয়ড়া-চন্দনপুর সর্বজনীন ও নাথপুর সর্বজনীন। কেরালকাতা ইউনিয়নের ২টি পূজামণ্ডপ হলো: কেরালকাতা ঠাকুরবাড়ি সর্বজনীন ও সাতপোতা সর্বজনীন । হেলাতলা ইউনিয়নের ৩টি পূজামণ্ডপ হলো: দামোদরকাটি সর্বজনীন , হেলাতলা সর্বজনীন ও শুভংকরকাটি সর্বজনীন মাতৃমন্দির। কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের ৪টি পূজামণ্ডপ হলো: শিবানন্দকাটি সর্বজনীন, কুশোডাঙ্গা কালিবাড়ি সর্বজনীন, কুশোডাঙ্গা সেনগুপ্ত পাড়া দুর্গামন্দির ও রায়টা সর্বজনীন। দেয়াড়া ইউনিয়নের ৬টি পূজামণ্ডপ হলো: দেয়াড়া ঘোষপাড়া রাধাগোবিন্দ মন্দির. দেয়াড়া ঘোষপাড়া সর্বজনীন, পাটুলিয়া সনাতন সর্বজনীন, পাটুলিয়া কেন্দ্রীয় সর্বজনীন, পাকুড়িয়া সর্বজনীন ও দেয়াড়া-কাশিয়াডাঙ্গা মালোপাড়া সর্বজনীন পূজামণ্ডপ। যুগিখালি ইউনিয়নের ২টি পূজামণ্ডপ হলো: বামনখালি বিনোদতলা সর্বজনীন পূজামণ্ডপ ও ওফাপুর সর্বজনীন মায়ের মন্দির।  

এবারের দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতি, পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, কলারোয়া উপজেলা শাখার সভাপতি প্রকাশ চন্দ্র হালদার ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাস দেবুর সাথে। এঁরা সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিবেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবার উপজেলার সকল মন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি দাবি করে তাঁরা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো থাকায় পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা সমুন্নত থাকবে। সর্বোপরি আপামর মানুষের প্রাণঢালা ভালোবাসায় আনন্দঘন পরিবেশে এবারও দুর্গোৎসব উদযাপিত হতে যাচ্ছে- এমনটি মনে করেন কল্যাণ ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।