পাইকগাছায় ১৪৯ টিমন্দিরে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে, প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন
অরুণকুমার বিশ্বাস,পাইকগাছা,(খুলনা) : দক্ষিণ খুলনার ঐতিহ্যবাহী বানিজ্যিক শহর কপিলমুনিসহ পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আসন্ন হিন্দু সম্প্রদায়ের মারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে ধর্মনুরাগী লোকজন প্রতি বছরের ন্যায় এবার ও হিন্দু ধর্মীয় প্রধান ও সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব যথাযোগ্য মর্য্যাদায় ও ধর্মীয় উৎসাহ উদ্দীপনায় পালনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচীর মধ্যে প্রাথমিক প্রস্ততি বাঁশ, খড়,মাটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এবার পালাা রং তুলির প্রলেপ দেওয়ার। পূজা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত চলবে রং করা ও যাবতীয় সাজানোর কাজ। উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্দিরে শারদীয় দুর্গা পূজার প্রস্তুতির কাজ চলছে। পূর্ণ গতিতে প্রতিমা তৈরীতে বা্যস্থ ভাস্কররা। ৩ থেকে ৪ জন ভাস্কর সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা তৈরীর কাজ করে যাচ্ছেন বিবিন্ন পূজা মন্দিরে।
যথাযোগ্য মর্যাদায় ও দর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে এবছর পাইকগাছা উপজেলায় সর্ব্বমোট ১৪৯টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন ,খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পারষদের সহ সভাপতি,পাইকগাছা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি ও কপিলমুনি কপিলেশ্বরী কালিমদ্নিরের সভাপতি চম্পক কুমার পাল ।
তিনি আরও বলেন প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে রং করা ও যাবতীয় সাজানোর কাজ।পূজা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত চলবে রং তুলির প্রলেব দেয়া ও সাজ সজ্জার সাথে সাথে আলোক সজ্জার ব্যাবস্থা। অল্প বয়সী শিশু-কিশোর-কিশোরীরা মন্ডব গুলোতে ভিড় জমাছে শেষ মুহুর্তের কারুকাজ দেখতে। তারা এখনি ছুটছে নতুন পোশাক কিনতে বিভিন্ন বিপনিতে এবং ভাবছে সামনের আনন্দময় দিন কাটানোর শুভ ভাবনা। এবছর পাইকগাছা উপজেলার ১নং হরিঢালী ইউনিয়নে ১৭টি, ২নং কপিলমুনি ইউনিয়নে ১৮টি, ৩নং লতা ইউনিয়নে ১১টি, ৪নংদেলুটী ইউনিয়নে ১৩টি, ৫নংসোলাদানা ইউনিয়নে ১২টি, ৬নং লস্কর ইউনিয়নে ১৯টি, ৭নং গদাইপুর ইউনিয়নে ৭টি, ৮নংরাড়ুলি ইউনিয়নে ২০টি, ৯নং চাঁদখালী ইউনিয়নে ১৪টি, ১০নং গড়ইখালী ইউনিয়নে ১২টি ও পাইকগাছা পৌরসভায় ৬ টি মন্দিরে ,সব্বৃমোট ১৪৯ টি মন্দিরে দুর্গা পূজা উদযাপিত হবে। আগামি ১০অক্টোবর শনিবার অমাবস্যা তিথিতে মহালয়া পার্ব্বন শ্রাদ্ধম-এর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দেবী দুর্গার বোধন,১৬অক্টোবর শুক্রবার ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ অর্থাৎ দুর্গারবোধনের মাধ্যমে শুরু হবে মূল পূজা,১৯অক্টোবর সোমবার অষ্টমিপূজা ও ২০অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী পূজা এবং আগামী ২১অক্টোবর বুধবার শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গা দেবীর দশমী বিহিত পূজা সমাপনান্তে প্রতিমা বিসর্জ্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শেষ হবে।এদিকে দুর্গা পূজা যাতে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয় সে জন্য পুলিশ প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির বলেন, ,পূজার দু”একদিন আগে মন্দিরে মন্দিরে আইনÑশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ও আনসার বাহিনীর,গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক কর্মী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষথেকে নিরাপত্তা ব্যাবস্থার্ জোরদার রাখতে পুলিশের মোবাইল টিম সার্বক্ষনিক প্রতিটা মন্দিরে দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গাপূজা চলাকালীন সন্ধ্যা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ডপে নারীÑ পুরুষের ঢল থাকে। ঐ সময় বিদ্যুৎ লাইন চালু রাখার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর কাছ অনুরোধ জানিয়েছেন ,খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পারষদের সহ সভাপতি,পাইকগাছা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি ও কপিলমুনি কপিলেশ্বরী কালি মদ্নিরের সভাপতি চম্পক কুমার পালও পাইকগাছা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক শ্রী প্রাণকৃষ্ণ দাশ।
