কলারোয়ায় দাখিলের ফলাফল বিপর্যয়
★ ৫৮২ পরীক্ষার্থীর ২৬৮ জনই ফেল, জিপিএ-৫ মাত্র ৩ জন।
শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, কলারোয়া(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে এবার চরম হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার ২৮টি মাদ্রাসা থেকে ৫৮২ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩১৪ জন। বিপরীতে ফেল করেছে ২৬৮ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৪৬.০৫ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৪৬ জনই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, পুরো উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩ জন পরীক্ষার্থী। উপজেলার ২৮টি মাদ্রাসার মধ্যে ২৫টি প্রতিষ্ঠান থেকেই কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। ফলে দাখিলের ফলাফলে একদিকে যেমন উচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, অন্যদিকে মেধাবৃত্তিক ফলাফলেও দেখা দিয়েছে চরম সংকট। প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার প্রায় অর্ধেক মাদ্রাসার পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার নেমে এসেছে ১০ শতাংশের নিচে। ধান্যতাড়া, মদনপুর অধ্যাপক নাসিরউদ্দীন দাখিল মাদ্রাসায় ১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। পাসের হার ৬.২৫ শতাংশ। একই পাসের হার বাকসা হঠাৎগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসায়ও। সেখানে ১৬ জনের মধ্যে মাত্র একজন পাস করেছে। এ ছাড়া উলুডাঙ্গা ওসমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩ জন, পাসের হার ২১.৪২ শতাংশ। শাকদাহ দাখিল মাদ্রাসায় ৫ জনের মধ্যে একজন পাস করায় পাসের হার ২০ শতাংশ। পুটুনি দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ৬ জনের মধ্যে একজন এবং ছোট রাজনগর দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ জনের মধ্যে ৮ জন পাস করেছে।
তবে এর বিপরীতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ বা তুলনামূলক ভালো ফলও হয়েছে। গয়ড়া-রামভদ্রপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও বোয়ালিয়া আদর্শ মহিলা দাখিল মাদ্রাসার শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। গয়ড়া-রামভদ্রপুর বালিকা মাদ্রাসার ১১ জন এবং বোয়ালিয়া আদর্শ মহিলা মাদ্রাসার ১২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও চিত্রটি অত্যন্ত হতাশাজনক। কাকডাঙ্গা সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা, বসন্তপুর আমিনিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও কলারোয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে একজন করে মোট ৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। উপজেলার বাকি ২৫টি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীই সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
সার্বিকভাবে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের ৫৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১৪ জন পাস করায় উপজেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৩.৯৫ শতাংশ।
সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হারুন অর রশিদ বলেন, এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার কারণ চিহ্নিত করে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ একাডেমিক তদারকি, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের জবাবদিহিতা এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আরও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জিপিএ-৫-এর এমন নিম্নসংখ্যা নিয়েও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করা জরুরি।
