ঢাকা বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬ ২৯ ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৬ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

দৌলতপুরের জোড়ালাগা যমজ শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৬, বুধবার, সময়ঃ ১১.১৪ পি.এম
দৌলতপুরের জোড়ালাগা যমজ শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে
www.dailyranggaprovat.com

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সীমান্ত সংলগ্ন বিলগাতুয়া গ্রামের বুক ও পেট থেকে জোড়ালাগা যমজ শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।  বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু দুটির মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ।

উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের নাহিদ হাসান (২৬) ও সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তা (২২) দম্পতির ঘরে গত ৪ মে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় জোড়ালাগা যমজ কন্যাশিশু। জন্মের পর থেকেই জয়নব ও উম্মে কুলসুম বুক থেকে পেট পর্যন্ত অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত ছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা ছিল। তবে দরিদ্র পরিবারের জন্য ব্যয়বহুল চিকিৎসা ও অস্ত্রোপাচারের খরচ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তবে শিশু দুটিকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশের পর বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। পরে সরকার জয়নব ও উম্মে কুলসুমের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত নেন। রোববার বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসানকে ফোন করে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, শিশু দুটির অস্ত্রোপাচার, পরবর্তী চিকিৎসা, ফলোআপসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বহন করবে। এরপর কালবিলম্ব না করে সোমবার শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা শুরু হয়।

শিশুদের পরিবারের সদস্য জাহিদ হোসেন জানান, মন্ত্রনালয়ের ফোন পেয়ে সোমবার শিশু দুটিকে নিয়ে তার বাবা মা দ্রুত ঢাকায় রওনা হন। বুধবার দুপুরের পর হঠাৎ তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। পরে নিহত শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান ও পরিবারের সদস্যরা যমজ শিশুর মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর শিশু দুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল। বুধবার দুপুরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। জোড়ালাগা এই দুই শিশুকে ঘিরে পরিবারের পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যেও ছিল নানা প্রত্যাশা। সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের আলাদা করে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার সেই সম্ভাবনা আর বাস্তবে রূপ নিল না। এদিকে যমজ শিশুর মৃত্যুর খবরে এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।