বাঁশের ভাসমান সাঁকোয় নদী পারাপার, টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি
শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : কলারোয়ার কোঠাবাড়ি-রায়টাসহ চার ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র বাঁশের সাঁকোটির স্থলে টেকসই কোনো ব্যবস্থা আজও গড়ে ওঠেনি। বেত্রবতীতে একটি পাকা সেতুর অভাবে মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগ মোকাবিলা করছেন। বর্তমানে বাঁশের ভাসমান সাঁকো বানিয়ে চলছে নদী পারপার। হেলাতলা ইউনিয়নের কোঠাবাড়ির পাশের গ্রাম শুভংরকাটি ও হেলাতলা। অপর পাড়ে কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের রায়টা ও কয়লা ইউনিয়নের আলাইপুর গ্রাম। বেত্রবতী নদীর তীরে এ গ্রামগুলোর অবস্থান। রায়টার পূর্বপাশে রয়েছে যুগিখালি ইউনিয়নের আগুনপুর(রাজনগর) গ্রাম। হেলাতলা, কুশোডাঙ্গা, কয়লা ও যুগিখালি-এই চার ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম এই সাঁকো। টেকসই পাকা সেতু না থাকায় কোমলমতি পড়ুয়াসহ বিপুল জনগোষ্ঠী নদী পারাপারে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। গত শনিবার সরেজমিন ঘটনাস্থলে যেয়ে এরূপ অবস্থা প্রত্যক্ষ করা গেছে। এ জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, বেত্রবতীর ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা। কোঠাবাড়ি গ্রামের ঠিক বিপরীতে নদীতীরবর্তী কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের রায়টা গ্রাম। এই দুই গ্রামকে বিভক্ত করেছে বেত্রবতী। ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা প্রায় ৭০ মিটার দীর্ঘ অপ্রশস্ত ভাসমান সাঁকোটি দাঁড়িয়ে আছে ৬০টি প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর। ড্রামগুলো সুনিপুণভাবে বাঁশের খুঁটি ও পাটাতনের সাথে সংযুক্ত করে দিয়ে সাঁকোটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সাঁকোটির ওপর দিয়ে চলাচলের সময় সাঁকোটি দোল খায়। সেই সাথে দুলে দুলে সাঁকো পার হন মানুষ। কোঠাবাড়ি গ্রামে সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায়, সাঁকোটি এতটাই সংকীর্ণ যে একটি বাইসাইকেল সাথে করে নিয়ে পার হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে বেত্রবতী নদীর ওপর স্থাপন করা বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যায়। এরপর ড্রাম দিয়ে ভেলা বানিয়ে তা দিয়ে মানুষ নদী পারাপার হতে থাকেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের প্রাণান্ত প্রচেষ্টা ও হেলাতলায় ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের সহায়তায় সম্ভব হয়েছে নদীটির ওপর ভাসমান বাঁশের একটি সাঁকো স্থাপন করা। ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তাঁর ভাই শিল্পপতি ইমাম হোসেন আর্থিক সহায়তা করেন এই সাঁকো নির্মাণকাজে। তিনি বলেন, সাঁকোটি স্থাপিত হওয়ায় অন্ততপক্ষে দুপারের মানুষ হেঁটে নদী পারাপার হতে পারছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে।চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম আরও বলেন, ২০০৩ সালে তিনি প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে গত ২৩ বছর ধরে এখানে মানুষ পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করিয়ে দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ড্রামের ওপর বাঁশের সাঁকোটি বানিয়ে দেন তিনি। যা বর্তমানে এখনো সচল রয়েছে। তারপরেও এখানে টেকসই পাকা সেতু বানানো গেলে মানুষের নদী পারাপারের দুর্ভোগ লাঘব হতো। হেলাতলা-কোঠাবাড়ি গ্রামের ইউপি সদস্য আমিরুল ইসলাম বলেন, কোঠাবাড়ি গ্রামের লোকজন প্রতি শনি ও মঙ্গলবার রায়টা বাজারের সাপ্তাহিক হাটে যান। এছাড়া অন্যদিনও নানা প্রয়োজনে তাদের রায়টা বাজারে যেতে হয়। কোঠাবাড়ি গ্রামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় তাদের হেলাতলা অথবা রায়টায় যেতে হয়। সে কারণে কোটাবাড়ি-রায়টার সংযোগ সাঁকোটি তাদের নদী পারাপারে একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে আলাপকালে কলারোয়া উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন বলেন, এখানে সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু রায়টা পাড়ের সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়নি। তিনি বলেন, ইউপি চেয়াম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের দাবির প্রেক্ষিতে আরও একবার সংযোগস্থলের সামান্য দিক পরিবর্তন করে সেতুর জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এখনো সেটির অনুমোদন মেলেনি। তাই সেতু নির্মাণ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা গেলে বেত্রবতীর দুই তীরের মানুষের বদলে যেতো জীবনযাত্রা। শুরু হতে পারতো এ জনপদের যোগাযোগের এক নবদিগন্তের। ড্রাম দিয়ে তৈরি করা ভাসমান বাঁশের সেতু দূর থেকে দেখলে মনোরম মনে হতেই পারে কিন্তু বাস্তবে এটি মোটেই টেকসই স্থায়ী ব্যবস্থা নয় -এমনটি মনে করেন এলাকার মানুষজন।
:
