সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ববির তিন শিক্ষার্থী
বরিশাল প্রতিনিধি :
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আইন বিভাগের তিন শিক্ষার্থী সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন-আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সপ্তম ব্যাচের জান্নাতুল আইশা, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ ব্যাচের জয়ন্ত হালদার এবং ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ ব্যাচের মো. নাইম হোসাইন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রকাশিত ফলাফল সূত্রে জানা গেছে, জান্নাতুল আইশা মেধাতালিকায় ১৫তম এবং জয়ন্ত হালদার ৬৭তম স্থান অর্জন করেছেন। একই পরীক্ষায় মো. নাইম হোসাইন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এর আগে বুধবার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) অধীনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক, লিখিত ও মৌখিকসহ বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা শেষে তাদের সিভিল জজ পদে সুপারিশ করা হয়। তিন শিক্ষার্থীর এই সাফল্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে জয়ন্ত হালদার বলেন, প্রথমেই পরম করুণাময়ের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ধৈর্য ও একাগ্রতার পর আজকের এই সাফল্য অর্জন করতে পেরে আমার অনুভূতি সত্যিই ভাষায় প্রকাশের অতীত। এটি শুধু একটি চাকরি বা অর্জন নয়; বরং মানুষের সেবা করা এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি বড় আমানত ও দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, এই দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রায় আমার পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অবদান অপরিসীম। তাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন ছাড়া এই পথ অতিক্রম করা সম্ভব হতো না। ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় আমি মেধাতালিকায় ৬৭তম স্থান অর্জন করেছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারি।’
এ বিষয়ে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কাইসার আহমেদ বলেন, ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত আমাদের তিন কৃতি শিক্ষার্থী জান্নাতুল আইশা, নাইম হোসাইন ও জয়ন্ত হালদারকে আইন বিভাগের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আমি আশা করি, তারা কর্মক্ষেত্রে নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও সততার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও বিচার বিভাগের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও আইন বিভাগের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে।
তিনি আরও বলেন, তাদের এই সাফল্য বিভাগের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতেও আমাদের শিক্ষার্থীরা এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আশা করি। এছাড়া যারা বিজেএস পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপে উত্তীর্ণ হয়েও চূড়ান্তভাবে সফল হতে পারেনি, তাদের অধ্যবসায় ও প্রচেষ্টার প্রতিও আমার দোয়া ও শুভকামনা রইল। ববির আইন বিভাগের তিন শিক্ষার্থীর এই অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
