ঢাকা রোববার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৩ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

কালিগঞ্জে বেকারি পণ্যের দাম এক লাফে দ্বিগুণ

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার, সময়ঃ ০৮.১৯ এ.এম
কালিগঞ্জে বেকারি পণ্যের দাম এক লাফে দ্বিগুণ
www.dailyranggaprovat.com

সুকুমার দাস বাচ্চু, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) থেকে : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর স্থানীয় বেকারি গুলোর উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) থেকে পুনরায় খুচরা বাজারে সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে বাজারে পণ্য ফেরার সঙ্গে সঙ্গে বেকারি পণ্যের দাম এক লাফে দ্বিগুণ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, এতদিন যে বেকারি পণ্য ৫ টাকা দরে বিক্রি করা হতো, সেগুলোর এখন ১০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে কিন্তু ওজন ও মাপ পূর্বের ন্যায়। অর্থাৎ মাত্র এক ধাপে পণ্যের দাম ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। হঠাৎ করে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

ভোক্তারা বলছেন, সময়ের সঙ্গে উৎপাদন খরচ, কাঁচামালের দাম, পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কিছুটা বাড়তে পারে এটি বাস্তবতা। কিন্তু কোনো পণ্যের দাম এক লাফে দ্বিগুণ করা হলে তার পেছনে কী ধরনের হিসাব বা কারণ রয়েছে, তা ভোক্তাদের জানার অধিকার রয়েছে।

বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়লেও বেকারি পণ্যের ক্ষেত্রে ৫ টাকার পণ্য সরাসরি ১০ টাকা করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব যদি মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়ে থাকে, তাহলে সেই অনুপাতে মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি স্বচ্ছ ভাবে জানানো প্রয়োজন।

স্থানীয় বাজার সংশ্লিষ্টদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বেকারি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল। রবিবার থেকে পুনরায় এসব পণ্য বাজারে আসতে শুরু করলেও নতুন মূল্য তালিকা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে বেকারি মালিকদের সমন্বিত সিদ্ধান্ত বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।সাধারণ ভোক্তাদের প্রশ্ন বেকারি পণ্যের দাম হঠাৎ দ্বিগুণ করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়েছে কি না। মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি কোনো নির্দেশনা বা অনুমোদন রয়েছে কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি অবগত কি না এবং সংশ্লিষ্ট ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি এসেছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ভোক্তারা বলছেন, বাজারে কোনো পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা। উৎপাদন খরচ, কাঁচামালের বাজারদর, শ্রমিক মজুরি ও পরিবহন ব্যয়সহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাই করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, বেকারি পণ্যের নতুন মূল্য নির্ধারণের পেছনে প্রকৃত কারণ কী, কোন প্রক্রিয়ায় দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কি না—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হোক।

সাধারণ ক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে পণ্যের সরবরাহ বন্ধ রেখে পরবর্তীতে একসঙ্গে মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হলে এর সরাসরি চাপ পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। তাই হঠাৎ করে ৫ টাকার পণ্য ১০ টাকা করার বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।