ঢাকা রোববার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৩ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

প্রতরনার মাধ্যমে বিয়ে করে নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, সময়ঃ ১০.০০ এ.এম
প্রতরনার মাধ্যমে বিয়ে করে নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগ
www.dailyranggaprovat.com

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি : প্রতরনার মাধ্যমে বিয়ে করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ওই ভুক্তভোগী নারী।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের বড়বাড়িয়া এলাকার মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে লিয়া আক্তার পুতুল বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করতো একই উপজেলার শিবপুর এলাকার ইলিয়াস খন্দকারের ছেলে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়ান্দা সংস্থায় (এনএসআই) কর্মরত জহিরুল খন্দকার। তখন লিয়া তার প্রেমে সারা না দিলেও পরে বাধ্য হয়ে ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই তার সাথে সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে লিয়ার পরিবার প্রেমের সম্পর্ক জানতে পারলে আগৈলঝাড়া উপজেলার পূর্ব সুজনকাঠি গ্রামের এক ব্যবসায়ী ছেলের সাথে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই লিয়াকে পারিবারিক ভাবে বিয়ে দেয়। বিয়ের পর লিয়া তার স্বামীর সাথে দাম্পত্য জীবনে সুখে ছিলো। কিন্তু লিয়ার সাবেক প্রেমিক জহিরুল খন্দকার তার বিয়ের পর থেকেই তাকে তার কাছে ফিরে আসার জন্য হুমকি দেয়। জহিরুল খন্দকার তখন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়ান্দা সংস্থা (এনএসআই) বরিশাল অফিসে জুনিয়ার ফিল্ড অফিসার পদে চাকুরী করতো।

লিয়া অভিযোগে জানায়, জহিরুল আমাকে প্রতিনিয়ত আমার স্বামীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। কিন্তু আমি তার কোন প্রস্তাবে সাড়া দেই না। তখন সে আমার ও তার বিভিন্ন সময় ঘুরতে যাওয়ার ছবি আমার স্বামীকে দেবে বলে জানায় এবং আমি যদি আমার স্বামীকে ছেড়ে চলে না আসি তাহলে আমাকে ও আমার পরিবারকে ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয়। যেহেতু সে গোয়ান্দা সংস্থায় চাকুরী করে সেই প্রভাব দেখিয়েই সে আমাকে এবং আমার পরিবারকে ক্ষতি করতে পারে সেই চিন্তায় আমি বাধ্য হয়ে তার কথা মেনে বিয়ের ৪ মাস পর আমার স্বামীকে তালাক দিয়ে তার কাছে চলে আসি। তখন জহিরুল খন্দকার বরিশাল শহরে বাসা ভাড়া করে আমাকে নিয়ে উঠে। জহিরুল তখন বাসায় এসে একটি কাগজে আমাকে স্বাক্ষর করতে বলে। আমি জানতে চাইলে সে বলে এটা বিয়ের কাবিননামা। এখন থেকে আমরা স্বামী স্ত্রী। ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর তার সাথে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আমরা বরিশাল শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকতাম। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই সে আমাকে কারনে অকারনে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে এবং সে বাসার বাহিরে গেলে আমাকে ভাড়া বাসায় তালাবদ্ধ করে রেখে যেত। আমি এই ঘটনা যেন কাউকে বলতে না পারি সেজন্য জহিরুল আমার মোবাইল ফোনটা আটকে রাখতো। পরে বরিশাল থেকে আমাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। চলতি বছরের জুন মাসে ঢাকার ভাড়া বাসায় আমাকে রেখে সে পালিয়ে যায়। পরে আমার পরিবারকে জানালে তারা

আমাকে সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে আসে। তখন থেকে আমি জহিরুলের সাথে একাধিকবার

যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে খুজে পাইনি। সম্প্রতি আমি আমার নানা বাড়ি আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামে বেড়াতে আসি। আমি জহিরুলের বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জহিরুলকে ছেড়ে দেয়ার জন্য বলে। যেহেতু আমার প্রথম এক জায়গায় বিয়ে হয়েছিলো তখন জহিরুল আমাকে জোরপূর্বক আগের স্বামীর সংসার ভেঙ্গে তাহলে সে কেন আবার আমাকে বিয়ে করলো। এই বিষয়ে তার পরিবারকে জানালে তারা জানায় জহিরুলকে তারা অন্যত্র বিয়ে করিয়েছে। এখন আমি তাদের কিছুই করতে পারবো না বলে হুমকি দেয়। জহিরুলের সাথে বিয়ের নামে যে কাগজে আমার স্বাক্ষর নিয়েছিলো সেই কাবিননামা জহিরুলের কাছে একাধিকবার চেয়েও আমি পাইনি। কারন বিয়েটা ছিলো পুরো ছলনা। আমি আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য যখন চেষ্টা করছি তখন জহিরুল গত ২ অক্টোবর আমাকে ফোন দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। তখন আমি তার কাছে জানতে চাই আমার জীবনটা কেন শেষ করে দিলে। তখন আমাকে সে বলে আমি তার কিছুই করতে পারবো না। তখন আমি যখন বলি আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছো তখন বেচে থেকে আমার লাভ কি। তখন সে আমাকে বিষ খেয়ে মরে যাওয়ার কথা বলে। পরবর্তীতে ওইদিনই আমি অধিক ঘুমের ঔষধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করি। পরে আমার পরিবার আমাকে অসুস্থ্য অবস্থায় আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

লিয়ার মা চায়না বেগম জানান, আমার মেয়ে লিয়াকে এক ছেলের সাথে বিয়ে দেয়ার পরও জহিরুল জোরপূর্বক আমার মেয়েকে তার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে আমার মেয়েকে নিয়ে জহিরুল পালিয়ে যায় এবং বিয়ের নামে প্রতারনা করে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। এঘটনায় আমরা আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছি। বরিশাল কালুশাহ সড়কের কবিরাজ বাড়ির মালিক মুনসুর আহম্মেদ জানান, জহিরুল এবং লিয়া স্বামী স্ত্রী হিসেবে আমার বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ সাত মাস থেকেছে। অভিযোগ অস্বীকার করে জহিরুল খন্দকার বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। লিয়ার সাথে এক বন্ধুর মাধ্যমে আমার ও লিয়ার বিয়ের কথা হয়। পরে জানতে পারি লিয়ার আগে বিয়ে ও স্বামী রয়েছে। এ বিষয়টি জানার পর তাকে (লিয়া) বিয়ে করবো না বলে জানিয়ে দেই। লিয়া আমার বিভাগীয় অফিসেও অভিযোগ করেছে তবে সে কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। বরিশালে ভাড়াটিয়া বাসায় থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে জহিরুল খন্দকার বলেন, ‘মুনসুর নামে কোনো ব্যক্তির বাসায় আমি কখনো ভাড়া থাকিনি। আমার বিরুদ্ধে এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’ তিনি আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে মানহানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।