অরুনিমায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও গলফের প্রসারে উদ্যোগ, এক বছরে ২৫ হাজার গাছের লক্ষ্যমাত্রা
মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী, নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতীর পানিপাড়ায় অবস্থিত অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের উদ্যোগে ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দিনব্যাপী ‘ড. রাফি–ড. বেগম মেমোরিয়াল জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মের মধ্যে খেলাধুলার প্রসার এবং পানিপাড়ার পর্যটন সম্ভাবনা বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে এ আয়োজন করা হয়।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক, স্পোর্টস অ্যানালিস্ট ও কনসালট্যান্ট অনুপম হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব কমিটির সভাপতি খবির উদ্দিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইরফান আহমেদ। টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ক্রীড়ানুরাগী ও ক্রীড়া সংগঠক এ কে এম শহীদুল আলম।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং ক্ষুদে ও জুনিয়র গলফাররা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন সম্প্রসারণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ১২ হাজার গাছ রোপণ ও বিতরণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে অবশিষ্ট ১৩ হাজার গাছ রোপণ ও বিতরণের মাধ্যমে এক বছরের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে খবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর, জলাশয় ও পরিযায়ী পাখির বিচরণ পর্যটনশিল্পের বিকাশে সম্ভাবনাময় সম্পদ। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি গলফ ট্যুরিজম ও ইকো-ট্যুরিজমের সমন্বিত বিকাশ ঘটানো গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, পর্যটনশিল্পের টেকসই উন্নয়নে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
স্বাগত বক্তব্যে ইরফান আহমেদ বলেন, পানিপাড়া দীর্ঘদিন ধরে ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত। প্রাকৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই গ্রামটি এখন ‘গলফের গ্রাম’ হিসেবেও পরিচিতি অর্জন করছে।
তিনি জানান, একই গ্রামের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন শিশু-কিশোর গলফ খেলছে। পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ, নিয়মিত প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক প্রচারের মাধ্যমে পানিপাড়ার পরিচিতি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। গলফ ও প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের বিকাশ ঘটানো গেলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
১৬ ও ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘ড. রাফি–ড. বেগম মেমোরিয়াল জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এ ক্লাবের ক্ষুদে ও জুনিয়র গলফারদের পাশাপাশি স্থানীয় উদীয়মান গলফাররা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও কৃতী গলফারদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
বিশেষ অতিথি অনুপম হোসেন বলেন, শিশু-কিশোরদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। এতে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান জুনিয়র গলফারদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব।
টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক এ কে এম শহীদুল আলম শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি এ ধরনের জুনিয়র গলফ প্রতিযোগিতা প্রতিবছর আয়োজনের আশ্বাস দেন। তৃণমূল পর্যায়ে গলফের প্রসার ও নতুন খেলোয়াড় তৈরিতে সহযোগিতার জন্য ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের অধিভুক্ত একটি বেসরকারি গলফ ক্লাব। প্রাকৃতিক পরিবেশ, গলফ কোর্স ও আবাসন সুবিধার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি গলফ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ পর্যটন বিকাশে ভূমিকা রাখছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, তৃণমূল পর্যায়ে গলফের প্রসার ও পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
