ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে নারী এএসআইয়ের জিডি
মো: সাজিদ রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি : থানায় এসে এক নারী সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার ঘটনায় ওসি'র স্ত্রীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী করেছেন এএসআই শাহনাজ আক্তার। ঘটনাটি বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার।
এএসআই শাহনাজ আক্তারের দায়ের করা জিডির একটি ছবি রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে প্রকাশ পাওয়ার পর সর্বত্র ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জিডিটি অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর এএসআই শাহনাজ আক্তার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এতে তিনি একই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ খানের স্ত্রীকে দায়ী করেছেন।
জিডির বিবরণে শাহনাজ আক্তার উল্লেখ করেছেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ টা ৪৫ মিনিটে ওসির স্ত্রী আঞ্জুমান (৪০) থানায় এসে তাকে (এএসআই) উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। ওই সময় তিনি থানার ডিউটি অফিসারের চেয়ারে বসা ছিলেন। সেসময় ওসির স্ত্রী তাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং রাতের বেলায় ওসির কক্ষে যাওয়া ও চাকরিতে আসা নিয়ে কটূক্তি করেন। এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিব্রত ও অপমানিত হয়েছেন।
জিডির বিবরণে আরো একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন এএসআই শাহনাজ আক্তার। সেখানে গত মার্চ মাসে তার ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে জরুরি ছুটির প্রয়োজন হলে তিনি রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ছুটির ব্যবস্থা করতে থানায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে ওসির মাধ্যমে ছুটির অনুমতি নিয়ে আবেদন করেন। ছুটি থেকে ফিরে তিনি জানতে পারেন, থানায় কর্মরত আরেক এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে ওসির স্ত্রী বলেছেন, ওসির সঙ্গে তার (শাহনাজ আক্তার) অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তার সাথে রাত কাটিয়েছি, আমার বাচ্চা আমার স্বামীর না। তখন বিষয়টি নিজের কানে না শুনলেও এখন সামনে এসে ওসির স্ত্রী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করায় ভবিষ্যতের প্রয়োজনে জিডি করেছেন বলে জানিয়েছেন এএসআই শাহনাজ আক্তার।
এ ব্যাপারে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া আমি বক্তব্য দিতে পারি না। তবে যা শুনেছেন ঘটনা সত্যি। এ ব্যাপারে এএসআই শাহনাজ আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন-এটা থানার অভ্যন্তরীন বিষয়, তাই এ ব্যাপারে তেমন কিছু বিস্তারিত বলতে পারছি না। তবে জিডির বিষয়ে যা শুনেছেন তা সত্যি।
অপরদিকে ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডি করার পরপরই এএসআই শাহনাজ আক্তারকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে বদলি করে জেলার বানারীপাড়া থানায় নিযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ায় ওসি মাসুদ খান জরুরি ছাড়পত্র দিয়ে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনসহ আরো কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন থানায় বদলি করেছেন বলে থানার নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে।
স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এটা ভুল তথ্য, এগুলো কে ছড়ায়। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ ব্যাপারে জানতে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো জবাব না দেয়ায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিষয়টি তদন্তের জন্য এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সম্প্রতি বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে তলব করা হয়। তবে সেখানে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে তা জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে খুদে বার্তায় ফোন দেয়ার কারণ জানতে চান। পরবর্তীতে তাকে খুদে বার্তা পাঠালে তিনি মেসেজ সিন করে আর কোনো উত্তর দেননি।
