গলায় ফাঁস লাগানো পুলিশ সদস্যর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
বরিশাল প্রতিনিধি : বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পুলিশ সদস্যর স্ত্রী রুনা আক্তারের (২৮) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া সড়কের বাইতুন নূর জামে মসজিদ সংলগ্ন নতুন রাস্তা এলাকার একটি ভাড়া বাসায়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
ওসি আরও জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর রুনা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
জানা গেছে, নিহত রুনা আক্তার বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী শাওন ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত রয়েছেন। বাড়ির মালিকের স্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি মাসের ১ তারিখ পুলিশে কর্মরত স্বামীর পরিচয় দিয়ে রুনা নিজেই বাসাটি ভাড়া নিয়েছেন।
তবে বাসা নেওয়ার পর থেকে তার স্বামী শাওন সেখানে আসেননি। তবে ভিডিও কলের মাধ্যমে তার সাথে বাড়ির মালিকের পরিবারের কথা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, বাসা ভাড়ার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মোবাইল ফোনে দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, রুনা ও শাওন পরস্পরের মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন। প্রেমের সম্পর্কে তারা বিয়ে করেছেন। তবে তাদের বিয়ে শাওনের পরিবার মেনে নেয়নি। এ কারণে পড়াশোনার সুবাদে রুনা আক্তার জিয়া সড়কের ওই বাসায় একাই থাকতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে স্বামী শাওনের সাথে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন রুনা। এরপর তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। তবে কী কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা এখনও জানা যায়নি। রুনার মৃত্যুর খবর শাওনের মাকে জানানোর পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
