পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ১৩০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের স্বপ্নের ঠিকানা
অশোক মুখার্জি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০ পরিবারের পুনর্বাসন পল্লী ‘স্বপ্নের ঠিকানা’র বাসিন্দাদের ঘরের দলিল সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৮ সালের ২৭ অক্টোবর এসব পরিবারকে সেমিপাকা ঘর হস্তান্তর করা হলেও মালিকানার দলিল পায়নি। এনিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বহু দেনদরবার করেছেন। অবশেষে গত ৯ জুলাই ১২১টি পরিবারের দলিল সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৯টির সম্পন্ন হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট)। নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির দায়িত্বশীল সূত্র এখবর নিশ্চিত করেছে। কিছুদিন পরেই দলিলগুলো হস্তান্তর করা হবে। ফলে এসব পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে।
দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে, এ টাইপের ৮২ পরিবার প্রত্যেকে সাড়ে সাত শতক, আর বি টাইপের ৪৮ পরিবার পাঁচ দশমিক ৫৫ শতক জমিসহ সেমিপাকা বসতঘর পেয়েছেন। নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির পক্ষে দাতা হিসাবে দলিলে স্বাক্ষর করেছেন কোম্পানির সচিব বিমল চন্দ্র রায়। জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ কিছু জটিলতার কারণে দলিল করতে বিলম্বের কথা বলা হয়েছে।
বসতঘরের দলিল সম্পন্ন হলেও এই পল্লীতে এসব পরিবারের বহুবিধ সমস্যা রয়েছে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে এই ঘরে বসতি স্থাপন শুরু করলেও অধিকাংশ পরিবার তার পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে থাকার মত ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে ঘরগুলো জীর্ণদশা। পলেস্তরা খসে পড়ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যা রয়েছে। ফলে মশার উপদ্রব রয়েছে। গভীর নলকূপগুলো অধিকাংশই অকেজো। পুকুরের পাড় ভেঙে গেছে। অন্তত অর্ধেক পরিবার এই বসতঘরে থাকছেন না। কারণ জেলে ও কৃষক পরিবার ঘরবাড়ি, কৃষিজমি হারিয়ে পেশা হারিয়ে ফেলেছেন। তারা দূরে কোথাও গিয়ে শ্রমজীবীর কাজ করছেন। স্বপ্নের ঠিকানা এখন তাঁদের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
বি-১৮ ঘরের পুনর্বাসিত পরিবার প্রধান জামাল মৃধা জানালেন, তিন ছেলেকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পাঁচজনে কোনমতে ঘরটিতে বসবাস করছেন। তাঁদের দাশের হাওলা গ্রামে দুই ভাই ও পাঁচ বোনের প্রায় আট একর কৃষিজমি ছিল। চাষাবাদ করে ধানসহ কৃষি উৎপাদন করতেন। মাছের চাষ করতেন। গবাদিপশু পালন করতেন। বছরে ৮-৯ লাখ টাকা আয় করতেন। ২০১৫ সালে তাঁদেরকে উচ্ছেদ করা হয়। এরপরে অনেক কষ্ট করে পুনর্বাসনের পর থেকে ১২টি বছর বেকার। বিদ্যুৎ প্লান্টে কোন কর্ম মেলেনি। শিক্ষিত ছেলেও বেকার। জামাল মৃধা জানান, তখন (২০১৫ সালে) তাঁদের এলাকায় এক শতক জমি ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ক্ষতিপূরণ ধরা হয়েছে ৫৬০০-৫৮০০ টাকা। আর এখন এক শতক জমি বিক্রি হয় কমপক্ষে ৩৩ হাজার টাকায়।
এ টাইপের ৪১ ঘরের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা দেখালেন ঘরের সামনের কার্নিশে ফাটল। সিড়ি ফেটে গেছে। ফ্লোরের প্রলেপ উঠে গেছে। বালুতে হাটা যায় না। তার অভিযোগ, লোকাল বালু দিয়ে কাজ করা হয়েছে। এ-৪৬ ঘরের বাসিন্দা টেকনিক্যাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবির জানায়, হাত দিয়ে ধাক্কা দিলে প্লাস্টার উঠে যায়। বৃষ্টিতে রাস্তার উপরে হাটু বরাবর পানি জমে যায়। পুনর্বাসন পল্লী স্বপ্নের ঠিকানার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও বাসিন্দা মো: অলিউর রহমান নিপু জানান, বিদ্যৎ প্লান্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদেও সঙ্গে দেয়া ওয়াদা অধিকাংশই পালন করেননি। চারটি দোকানঘর আজ পর্যন্ত কাউকে হস্তান্তর করা হয়নি বলেও এদের অভিযোগ।
